হাসান জাকির:

স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মসনদ না থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র মেলেনি রাজধানীর অধিকাংশ বস্তি ও পথবাসীদের। ফলে মানুষগুলো শুধু নাগরিক সুবিধা বঞ্চিতই নয়, দিন দিন নিমোজ্জিত হচ্ছে অন্ধকার জগতে।

অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অপরাধ করেও ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে সমাজের এই

সব পথই মানুষকে নিয়ে যায় আপন ঘরের আঙ্গিনায়, কিন্তু কিছু মানুষ পড়ে রয় পথেই। পথই যাদের ঘর, পথই তাদের সংসার।

রিপোর্টার: হাসান জাকির

সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা। মাইটিভির “আলো আঁধারের গল্প টিমের ক্যামেরার অবস্থান রাজধানীর তেঁজগাও বস্তি এলাকায়। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে মানুষগুলোর বসবাস থাকলেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত তারা।

জরাজীর্ণ ছোট্ট খুপড়ি ঘরেই দারিদ্র্যের কঠিন কষাঘাতে কাটে তাদের জীবন। দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের সিংহভাগই জানে না নাগরিক অধিকার কি?

তাদের অনেকেরই নেই জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র। শুধু তাই নয় ভোটার কার্ড করতে গেলে কোথায় যেতে হয়! কি করতে হয় কিছুই জানেন না তারা।

সারাদেশের প্রায় ৫ লাখ পথবাসীর মধ্যে ৫০ হাজারের অধিক বসবাস করে রাজধানীতে। রাত হলেই এসব পথবাসীর জীবনের বিবর্ণ চিত্র নজরে পড়ে। এমন বহু মানুষ আছেন, যাদের খুপড়ি ঘরটুকুও নেই। শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে বঞ্চিত এরা। জড়িয়ে পড়ছেন অন্ধকার পথে।

অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অপরাধ করেও এরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিষয়ক অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয় যদি না থাকে তবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্তা নেওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

এই সমস্যা সমাধানে পথবাসীদের পুনর্বাসনসহ কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।