জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীরদের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

0
82

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ। এ উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি গোটা জাতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, নির্বাচন কমিশন এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।

যাদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলার স্বাধীনতা, দেশের শ্রেষ্ঠ সেই সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্মৃতি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরন করতে কয়েক মিনিট নিরবে দাড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এসময় বেজে ওঠে বিওগলের করুন সূর। পরে দলীয় নেতার্মীদের সাথে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

স্মৃতি সৌধের বেদিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দল জাতীয় পাটির্, নির্বাচন কমিশন,তিন বাহিনীর প্রধানগন এবং বাংলাদেশ পুলিশ।

পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তুলে ধরেন স্বাধীনতার ৪৭ বছরের অর্জন এবং আগামীর পরিকল্পনা।

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী স্থানত্যাগের পরে জাতীয় স্মৃতি সৌধে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। পরে দিবসটি উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্বাধীনরতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৭ বছরে দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হয়েছে এবং আগামীতে সাম্প্রদায়িক শক্তির মূলোৎপাটন করতে হবে।

১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর দমন অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালিরা। বরাবরের মতোই রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটিকে পালন করা হচ্ছে জাতীয় দিবস হিসাবে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এবার এবার স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্তি উদযাপনে এসেছে নতুন অনুসঙ্গ।

সোমবার ভোর ৬টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হয়।

স্বাধীনতা দিবসে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে সেই ভিড়।

সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী যান ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সোমবার ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন তিনি।

এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ৮টায় সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত গাওয়া হবে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় ছবিতে। সব সরকারি, আধা সরকারি,স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।