জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ

0
369

আমিনুল মজলিশ : জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকার প্রথম দিকেই রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

সোনালী ব্যাংকের আলোচিত কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রতিষ্ঠান হলমার্ক রয়েছে এ তালিকায়। আরও আছে জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত এননটেক্স, ক্রিসেন্ট, বিসমিল্লাহ্ ও রানকা সোহেল গ্রুপ।

গেল ২২জুন জাতীয় সংসদে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ৩০০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশই আটকে আছে এমন কয়েকটি গ্রুপের হাতে যারা অতীতে বিভিন্ন ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত ছিলো।

অনুসন্ধানে দেখা যায় শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে এসএ গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে তালিকার শীর্ষে থাকা সামান্নাজ সুপার অয়েলের খেলাপি ঋণ এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা।

দেশের আলোচিত ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত এননটেক্স, ক্রিসেন্ট, বিসমিল্লাহ, রানকা সোহেল গ্রুপের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায়। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে এননটেক্সের ১৮টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পাঁচ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভুয়া রফতানিসহ নানা উপায়ে জনতা ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নেওয়া ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ তিন হাজার ১৫২ কোটি টাকা

এদিকে শীর্ষ খেলাপির পাঁচ নম্বরে রয়েছে এবি ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক মাহিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮২৫ কোটি টাকা। আশিকুর রহমান লস্কর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠান ঋণের টাকা পানামা ও লাইবেরিয়ায় পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ।

এছাড়া সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক হলমার্কের ম্যাক্স স্পিনিং রয়েছে ১৪ নম্বরে। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদেরও আনতে হবে শাস্তির আওতায়।
তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সৎ যোগ্য ও অভিজ্ঞদের যুক্ত করতে না পারলে কোন উদ্যোই কাজে আসবে না বলে মনে করেন তারা।