জীবনের শেষ ঈদগুলো যাদের বিবর্ণ

0
92

মাহবুব সৈকত : ঈদের আনন্দ ছুঁয়ে যায় সবাইকে। কিন্তু এমন কিছু হতভাগ্য মানুষ আছেন, যাদের কাছে ঈদ মানে স্মৃতিপটে আম্লান কিছু বেদনার নাম। অনেক সময় সন্তানদের স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করে, আবার কখনও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বয়সের ভারে ন্যুজ কিছু মানুষের স্থান হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। ঈদ আসলেই এলোমেলো হয়ে যায় তাদের জীবন হিসেবের পাতা।

নিবাসের সাথে তার বারান্দার সখ্যতা দেড় যুগের।
এলোমেলো জীবন হিসেবের পাতা, মিলাতে চাইলেও থেকে যায় অমিল। জানেন মিলবে না কোন দিন।

জীবন সায়হ্নে পাশে পেতে চায় দরদী মন, কিন্তুু স্বজন খুজে ব্যার্থ ক্লান্ত চোখ।
হাটুর জোর নেই তাতে কি, মনের তো জোরে আছে, লিফটের ব্যবস্থা না থাকায় অন্য নিবাসিদের মত সিড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে উপরে উঠেন তিনি ও। অগোছালো রুমে উৎকট গন্ধ, নিজের হাতে আকা ছবি শোভা পাচ্ছে দেয়ালে। যত্ন করে আকা ছবিগুলো পরে আছে অযতে। অথচ কয়েক বছর আগে ও কতটা সজিবতা ছিলো এই অগ্রজের মধ্যে।

এমন অব্যক্ত কত না ঘটনা থেকে যায় নিবাসের মধ্যেই।

প্রকৌশলী আবু তইয়োব, সফেদ চুল আর দাড়ি স্বাক্ষি দিচ্ছে পার হয়েছে আট দশক, সন্তান – সন্তুতি থেকে ও, কিছু ই নেই। চার দেয়ালের মধ্যে ই কাটে যে কোন উৎসব। মুখে না বল্লেও ঠিক ই স্বজন খোঁজে অভিমানি মন। কোন অভিযোগ নেই, নিয়তি ভেবে ই মেনে নিয়েছেন বাস্তবতা, তবে প্রত্যাশা যেন অন্য কোন অগ্রজকে না হতে হয় বাসিন্দা বৃদ্ধাশ্রমের।

চলাফেরার শক্তি হারিয়ে শয্যাশায়ি নিবাসি এই মা।
অপেক্ষা পরপারের ডাকের, তবুও আক্ষেপ নেই প্রবাসি সন্তানের উপর। স্বজনদের সম্মানের কথা চিন্তা করে বেশির ভাগ নিবাসি ই আসে না ক্যামেরার সামনে। শত কষ্টের পরও অভিযোগ নেই গর্ভধারিনীর।
নিবাসের কয়েক বর্গ ফুটের রুমটা যেন বার্ধক্য জেল, বছরে দু-চারবার মেলে স্বজনের দেখা, অতি অসুস্থ্যতায় ও পাশে নেই নাড়ি ছেরা ধন। এই যখন জীবন তখন কোথা থেকে আসবে উৎসবে আনন্দ ।