জুলাই পর্যন্ত ৪ কোটি ডোজ করোনার টিকা সংগ্রহ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
195

সরকারিভাবে জুলাই পর্যন্ত করোনার ৪ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  

বুধবার টিকাদান কর্মসূচির ১ মাস পার হওয়ায় সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, বিদেশি নাগরিক, সরকারি কর্মচারী, বিভিন্ন পোর্টে যারা কাজ করেন তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী টিকা পাবেন বিদেশিরা।

তিনি বলেন, প্রায় এক মাস ভ্যাকসিন আমরা দিয়েছি, ভ্যাকসিনের কার্যক্রম এক মাস হয়ে গেছে। আর সেটা সফলতার সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এ সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে ধন্যবাদ জানাই। তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে আমরা কাজ করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে যারা আছেন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানাই। ভ্যাকসিনের এ প্রোগামে দেশবাসী সন্তুষ্ট। অনেক সুমান পেয়েছি আর আমরা এ সুনামটি ধরে রাখতে চাই। ৩৩ লাখের বেশি যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া আছে তাদের প্রত্যেকে সুস্থ আছেন। কোনো জায়গাতে কোনো অঘটন ঘটেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখে পরিকল্পনা করছে সরকার। ভ্যাকসিন খাতে সাড়ে ৩ হাজার মিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। কোভ্যাক্স অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ কোটি ৯ লাখ ভ্যাকসিন দেবে বাংলাদেশকে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে অর্ডার আছে এবং কোভ্যাক্স যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা সেসব যদি ঠিকমতো পাই তাহলে ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। এই ৪ কোটি ডোজ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাসে আসবে, এরমধ্যে যদি কোনো পরিবর্তন লাগে সেটা করবো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১৫ দিনের মধ্যে একদিন ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা করব। সেরাম থেকে ভ্যাকসিন আনার পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন যদি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পায় সেগুলো নিয়েও আলোচনা করব।

তিনি বলেন, আমরা ভ্যাকসিন গ্রহণের বয়সসীমা ৪০ বছর নির্ধারণ করেছি, যদিও ভারতে ৬০ বা তার ঊর্ধ্বে লোকদের ভ্যাকসিন দিচ্ছে। আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে বয়সসীমা কমিয়ে আনার আমরা সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করছি। তবে আমাদের যে বয়সসীমা দেওয়া তাতে ৪ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দিতে হবে। যদি বেশি ভ্যাকসিন আসে তাহলে বয়সের বিষয় চিন্তা করতে পারব। আমাদের টার্গেট দ্বিতীয় ডোজ যেন হাতে থাকে সেটা চিন্তা করেই কাজ করছি।  

বেসরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন আনা হলে সেটা কীভাবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি অনুমোদন দেয়। সেক্ষেত্রে কোন কোন কোম্পানি ভ্যাকসিন আনতে পারে সেটা তারা নিজ অর্থে কিনবে আর সেই ভ্যাকসিন যারা নেবেন তাদেরও নিজ অর্থ দিয়ে কিনতে হবে। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তবে যে ভ্যাকসিনই আসুক সেটা ডব্লিউএইচও আমাদের ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন গাইড লাইন মেনে আনতে হবে।