ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে মা ইলিশ

0
106

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়েছে। দুইদিন ধরে রায়পুরে মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। তবে এইগুলো বেশির ভাগই মা। উপজেলার বাজারে শুধু ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে আর দামও কমে যাওয়ায় ক্রেতারা দেদারছে ক্রয় করছে তাতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই সন্তুষ্ট।

গত দুইদিনে জেলেরা প্রচুর মাছ  আহরণ করছে। ঝাকে ঝাকে আটকা পড়ছে ইলিশ। অধিকাংশের পেটে পরিপক্ক ডিম রয়েছে এখনো। তাতে ডিমওয়ালা মা ইলিশে ছেয়ে গেছে রায়পুরের বাজার। দাম হ্রাস পেয়েছে অর্ধেক। যে ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০- ৪০০ টাকা কেজিতে।

গত ১ থেকে ২২ অক্টোবর সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু অনেক ইলিশ ওই সময় ডিম ছাড়েনি। জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ডিম ছাড়তে পারেনি ইলিশ। তাই নদীতে জাল ফেললেই আটকা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ। এতে ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ মাছের নিশ্চিত প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুরের মেঘনার ষাটনল থেকে রামগতি পর্যন্ত ১শ কিলোমিটার নদী এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ এলাকায় ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সরকার ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে আইন জারি করে। কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, মূলত ১ থেকে ২২ অক্টোবর ইলিশের প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হলেও এ সময় মা ইলিশ তেমন একটা ডিম ছাড়ে না। স্থানীয় প্রশাসন ও মত্স্য বিভাগ ইলিশের প্রজনন মৌসুম জেলেদের সঙ্গে আলাপ না করেই নির্ধারণ করায় ইলিশ রক্ষা অভিযান অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

৪৫ বছর ধরে নদীতে ইলিশ ধরছেন জেলে রুহুল আমিন ও মফিজ আলম। তারা জানান, ‘ছোটবেলা থেকে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরছি। আমরা বুঝতে পারি কখন মা ইলিশ ডিম ছাড়বে। অথচ মত্স্য বিভাগ আমাদের সঙ্গে কখনও আলোচনা না করেই ডিম ছাড়ার প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করেছে।’

জেলে আমির হোসেন বলেন, ‘এখন জাল ফেললেই মা ইলিশ ধরা পড়ে। ডিমওয়ালা ইলিশ দেখে মায়া লাগে। আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে বাকি ইলিশগুলো ডিম ছাড়তে পারে। ডিম ছাড়ার আগে ইলিশ মাছ দুর্বল থাকে। এ সময় নদীতে জাল ফেললেই আটকা পড়ে ইলিশ। কিন্তু কী করব? সংসার চালানোর তাগিদে মা ইলিশও ধরে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের অভিযান ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে এর প্রতিফলন দেখতে পাব। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।’