আবু সাঈদ অপু :

মানুষের কষ্টের অর্জিত টাকা। আর সেই টাকা আত্মসাত করে পিয়ন থেকে অনেকে বনে গেছেন রাতারাতি কোটিপতি। কিভাবে হলেন এই অর্থের মালিক। আর কারাই বা এর পেছনে জড়িত। বলছি, ১৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া উত্তর জনপদের নীলফামারী পোষ্ট অফিসের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের পেছনে ৭ কারিগরের কথা।

কৃষিনির্ভর জনপদ নীলফামারী। এখানকার ৯৫ ভাগ মানুষ কৃষির উপর জীবিকা নির্বাহ অর্থ সঞ্চয় করেন বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক বীমায়।

২০০৫ সাল। নীলফামারীর প্রধান ডাকঘরের সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র শাখায় টাকা রাখেন অসংখ্য আমানতকারী। আর তা খেয়ানতে ডাকঘরের ৭ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী মেতে উঠে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। দুদকে মামলার পর বরাখাস্থও করা হয় তাদের।

২০১৭ সালের ৮ মার্চ। এই মামলার শুনানীকালে আদালতের বিচারকের চৌকশতায় ধরা পড়ে দুদকের দেয়া চার্জসিটে স্বাক্ষর ও নাম পরিবর্তন করার বিষয়টি। অফিস স্টাফসহ আটক হয় জালিয়াত চক্রের ৩ সদস্য।
আর তাই অনুসন্ধানে নামে মাই টিভির ঘটনার অন্তরালে টিম। উঠে আসে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে কিভাবে রাতরাতি কোটি পতি বনে গেছেন সহকারি পোষ্ট মাষ্টার ও টাকা আত্মসাৎকারী চক্রটি।

উঠে আসে দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তরালের কাহিনী। এক সময়ের অসচ্ছল পরিবার হয়েছেন বাড়ী, গাড়ীসহ বহুলতল দোকান ভবনের মালিক। গ্রামে বন্দরে নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

প্রথমদিন কথা বলতে গেলে ঘটনার হোতা দুদকের চার্জশীটভূক্ত প্রধান আসামী খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে নানা চেষ্টায় তার সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয় ঘটনার অন্তরালে টীম।

এখানেই শেষ নয়। চার্জসিট জালিয়াতির পেছনের নায়কদের ধরতে সক্রিয়তার সাথে কাজ করছে পুলিশ।
আর তাই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবিও মুখ খুললেন এই জালিয়াতি নিয়ে।