ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে এখন আর কৃষকদের কেউ ঠকাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

0
68

ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে এখন আর কৃষকদের কেউ ঠকাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কৃষিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে সঠিক কৃষি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে ৩-৩-৩-১ কৃষি বাতায়ন সেবা ও কৃষিবন্ধু ফোনের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সুবিধা ছড়িয়ে দেয়ায় কৃষকরা ফসল উৎপাদনে নানা সুবিধা পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে কৃষি উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগাতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। তাঁর সরকার কৃষকদের কল্যাণে পঁচিশ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকদের খাজনা মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবদ, উন্নতবীজ, সার, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সার, বীজসহ সকল কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের সহজশর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগসহ তাঁদের নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

আমরা কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করেছি। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভাসমান চাষ, বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন, ট্রান্সজেনিক জাত উদ্ভাবন, পাটের জেনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন ও মেধাসত্ব অর্জন করা হয়েছে। হাওর, পাহাড়সমৃদ্ধ ভৌগোলিক প্রতিকূল এলাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন ঘটছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের কৃষি সমাদৃত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষির এ অগ্রযাত্রায় দেশের কৃষক, কৃষিকর্মী, সম্প্রসারণবিদ, বিজ্ঞানী ও কৃষি উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এঁদের মধ্যে যাঁরা অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তাঁদেরই ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩’ প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী, ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৩’ প্রদান উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অপুষ্টি-ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মইনুদ্দীন আবদুল্লাহ এই বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার অনুষ্ঠানে সঞ্চালন করেন।

কৃষি বাতায়ন একটি কেন্দ্রীয় সার্ভিস পোর্টাল। এই পোর্টাল থেকে সেবা দিতে অথবা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে কিছু মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে।

কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এই মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হয়। কোন কৃষক নিজ ফোন থেকে ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করে কৃষি বাতায়নে কৃষি সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্ন করতে পারবে।

কৃষক এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মীদের নিরবিচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দিতে মোবাইল ফোন ভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ সেবা কৃষক বন্ধু ফোন সেবা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় এই সেবার গড়ে তোলে।