জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পোপ ফ্রান্সিস

0
71

মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকেল সোয়া চারটার দিকে তিনি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে এ শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বেলা তিনটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু। এ সময় বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে পোপকে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

পোপকে স্বাগত জানাতে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূতসহ কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল চারটায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, চারটা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতিরজনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, পাঁচটা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সন্ধ্যায় সেখানে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুশীল সমাজ ও কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভাষণ দেবেন পোপ ফ্রান্সি।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামীকাল (শুক্রবার) কুড়ে ঘরে প্রার্থনা সভায় বসবেন ধর্ম গুরু পোপ ফ্রান্সিস। আর এতে প্রায় ৮০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে রোমান ক্যাথলিক চার্চের আর্চ বিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। ওই প্রার্থনাসভায় বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির লোকজন অংশ নিবেন। পোপ ফ্রান্সিসের মিয়ানমার সফর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছিলেন পোপ দ্বিতীয় জনপল। তিন দশক পর তৃতীয়বারের মতো কোনো পোপ বাংলাদেশে আসছেন। তিনি প্রথমত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান রূপে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন। দ্বিতীয়ত ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু ও প্রধান পালক হিসেবে খ্রিস্টান সমাজের নিকট পালকীয় সফর করবেন।

বিশেষ ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দু’দফায় মিলিত হবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি উপাসনা অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন পোপ ফ্রান্সিস এবং ওই অনুষ্ঠানে ১৬ জন ডিকনকে ধর্মযাজক পদে অভিষিক্ত করবেন তিনি।

কার্ডিনাল রোজারিও পোপের সফর নিয়ে বলেন, আজ আমরা আনন্দিত ও উল্লসিত। আমরা সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি ছোট প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। পোপ তাদের সাথে কথা বলবেন। এ সফরে তিনি সম্প্রতির বানী শোনাবেন। সকল সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাবেন। তাই রোহিঙ্গাদের কষ্টে পোপ নিজেও ব্যাথিত।

সফর শেষে ২ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় তিনি রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।