তিন হাজার তালগাছ লাগিয়ে পুরস্কার পেলেন ময়মনসিংহের রফিকুল

0
60

সাইফুল ইসলাম :

এক সময় গ্রামাঞ্চলের পথে-প্রান্তরে ছিল প্রচুর তালগাছ। গৃহ নির্মাণসহ নানা প্রয়োজনে তালগাছ ব্যবহার করায় দিনে দিনে তালগাছের সংখ্যা কমেছে। একই সাথে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বদলে গেছে বৃষ্টিপাতের ধরন।

যে কারণে বেড়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত। অহরহ ঘটছে মানুষের প্রাণহানি। বজ্রপাত ঠেকাতে ময়মনসিংহের পল্লীতে হাজারো তালগাছ রোপন করেছেন এক প্রকৃতিপ্রেমী।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাইজবাড়ি বাজার থেকে কান্দিপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে চোখে পড়ে সারি সারি ছোট বড় অসংখ্য তালগাছ। এখন থেকে ২১ বছর আগে দুই কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে তিন হাজার তালগাছের বীজ রোপন করেন পার্শ্ববর্তী লংগাইর গ্রামের প্রকৃতিপ্রেমী রফিকুল ইসলাম। সেই বীজ থেকে গজিয়ে উঠা তালগাছ বড় হয়ে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

এসব তালগাছ প্রকৃতি ও পরিবেশের সৌন্দর্য বর্ধণের পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড়ঝঞ্ঝা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। অনেকেই তালগাছের ডালা দিয়ে জ্বালানি ও তালপাতার তৈরি করা পাখা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

প্রায় দুই যুগ ধরে তালগাছ রোপন করার স্বীকৃতি স্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী রফিকুল ইসলাম।

বজ্রপাতে মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সারাদেশে তালগাছ রোপণের কর্মসুচী গ্রহণ করেছে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

এ বছর টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সের বাইপাস সড়কের দুইপাশে তালগাছ রোপনের জন্য এক হাজার চারা উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছেন বৃক্ষপ্রেমী রফিকুল ইসলাম।

শুধু রাস্তার পাশে নয়, ক্ষেতের আইলে তালগাছসহ অন্য প্রজাতির দ্রুত বর্ধনশীল গাছ, যেমন সুপারি, নারিকেল ও বাবলা ইত্যাদি গাছ রোপনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত ঠেকানো যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।