তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে; লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

0
290

লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমানা দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে শনিবার বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১২টায় তা ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার সকাল থেকে পানি কমলেও দুপুরের দিক থেকে পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার বিকাল ৩টায় ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল অধ্যুষিত গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ওই পয়েন্টে গত ২৬ জুন তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে এবং টানা তিন দিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ৪ জুলাই সকালে আবারও পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে এবং সন্ধ্যা ৬টায় পানি কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে নামে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তিস্তায় পানি বাড়লে বন্যা দেখা দেয়। রবিবার পর্যন্ত তাঁর ইউনিয়নের এক হাজার ৪০টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এদিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্ণা, ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা, রাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী জেলার জলঢাকা, ডিমলা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জল কপাট খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদে থাকতে দুই জেলার জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, লালমনিরহাট জেলায় নতুন করে ১৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। ত্রাণসহায়তা হিসেবে ১২০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং নগদ অর্থসহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।