দাম্পত্যে মঙ্গল বয়ে আনে পরকীয়া

0
99

বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা পরকীয়া। এই পরকীয়া নিয়ে রীতিমত সমাজ অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরকীয়ার মাধ্যমেও দাম্পত্য সম্পর্কে আরো ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে দাবি করেছেন বেলজিয়ামের বিশিষ্ট মনোবিদ অ্যাস্থার পেরেল।

পেরেল তিন দশকের অধিক সময় মানুষের সম্পর্ক নিয়ে কাউন্সিলিং করছেন। পরকীয়ায় স্বামী–স্ত্রী কিংবা প্রেমিক–প্রেমিকার মধ্যে সম্পর্ক  শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয় বলে দাবি তার। মানুষ মাত্রই অবসাদগ্রস্ত। তাই অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে পরকীয়ার মতো পথ বেছে নেন অনেকে।

সামাজিক ব্যাধি পরকীয়া অস্থায়ী একটি মন বাসনা। ৯৯ ভাগ পরকীয়া অস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী। অবৈধ সম্পর্ক স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একটি অপরাধবোধের জন্ম দেয়। পরকীয়া শেষ হওয়ার পরে এই অপরাধ বোধই দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক আরো পাকাপোক্ত করে। ফলে দুইজনই দুইজনের দিকে মনোনিবেশ করে। তাতে সংসার জীবন মধুর হয়।

দ্য স্টেটস অফ অ্যাফেয়ার নামে পরকীয়া নিয়ে একটি বইয়ে পরকীয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন করেন হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মনোবিদ পেরেল। বইটিতে পেরেল দাবি করেছেন, দীর্ঘ সম্পর্কে একঘেয়েমি আসা একটি চিরাচরিত ও সিম্পল ব্যাপার। একই সঙ্গীর সাথে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ করে যৌনজীবনে অবসাদ ও একঘেয়েমি চলে আসে। তখন অনেকেই নতুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রয়োজন অনুভব করেন।

পেরেল এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যৌন অবসাদ দূরীকরণে এক্ষেত্রে একসঙ্গে সময় কাটানো, কথা বলা একটা বড় দাওয়াই হিসেবে কাজ হতে পারে। যৌনতা যতটা না শারীরিক, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক বিষয়। মানসিক আকর্ষণ ফিরিয়ে আনলেও পরকীয়া ঠেকানো সম্ভবপর বলেও মনে করেন এই মনোবিদ।

তবে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে পরকীয়ায় উৎসাহ দেননি এ মনোবিদ। উপশমের চেয়ে প্রতিকারই উত্তম বলেও মনে করেন তিনি। পরকীয়া জড়িয়ে পড়ার আগেই স্ত্রী স্বামীকে অথবা স্বামী স্ত্রীকে নিজের দিকেই ঝুঁকে রাখার পরামর্শ মনোবিদ পেরেলের।