দুদকের ওপর সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই : ওবায়দুল কাদের

0
56

দুদকের ওপর সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই বলেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও এর থেকে ছাড় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সকালে ধানমন্ডীতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় তিনি একথা বলেন।ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিএনপির আট নেতাকে দুদক তলব করল আর অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে। আসলে বিএনপি কথায় কথায় সরকারের হস্তক্ষেপ আবিষ্কার করে।

মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলবের ব্যাপারে সরকারের কোনো হাত নেই। দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, স্বাধীনভাবে কাজ করছে। অতীতে কোনো সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্যকেও দুদক তলব করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দুদকের মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। সরকার তো কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতাদের ব্যাংক হিসাবে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের জন্য বিএনপির আট নেতাকে দুদক তলব করেছে। খালেদা জিয়ার দুদকের মামলায় সাজা হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। সরকার কেন হস্তক্ষেপ করবে? তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এমপি- মন্ত্রীদের দুদক তলব করছে। সরকার হস্তক্ষেপ করলে তো তাঁদের দুদক তলব করতে পারত না।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি তো এখন আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল। হঠাৎ করে দলের গণতন্ত্র থেকে সাত ধারা বাদ দিয়েছে। এতে বলা ছিল দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিতরা দলের নেতা হতে পারবেন না। এটা বাদ দিয়ে এখন দলটি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দলে পরিণত হয়েছে।’

যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এবং মুজিবনগরের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম ঘটাতে দলের কেন্দ্রীয় এবং সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘উৎসবমুখর কর্মসূচি’ নেওয়ার ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয়ভাবে ‘উৎসবমুখর কর্মসূচি’ উদ্‌যাপনের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মুজিবনগর দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ, স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে। তাই দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে এই সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।