দেশে করোনায় আবারো সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও সর্বোচ্চ মৃত্যু

0
599

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৭১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৪৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫০২ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৮১ হাজার ৫২৩ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৯৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ২৫০ জন।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ৯ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩২ জন এবং বাসার মারা গেছেন ১৪ জন। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জন, রংপুর বিভাগের ৫ জন, সিলেট বিভাগের ও বরিশাল বিভাগের ৩ জন করে, রাজশাহী বিভাগের ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২ জন করে এবং খুলনা বিভাগের ১ জন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১-৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ জন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে আছেন ৬ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে আছেন ১২ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১-৮০ বছর বয়সের মধ্যে ৭ জন, ৮১-৯০ বছর বয়সীদের ১ জন এবং শতবর্ষের বেশি বয়সী আছেন ১ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৫৯টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৯০ টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪৩৬ জনকে। এ প‌র্যন্ত আই‌সো‌লেশনে নেয়া হলো ১৪ হাজার ৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ হাজার ১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৮৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৩২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৫৩ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।