দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু

0
318

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭,৮২২ জন। একই সময়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন সর্বোচ্চ ১৯ জন। এনিয়ে মোট মারা গেলেন ২৬৯ জন। 

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে পুরুষ ১২ জন এবং নারী ৭ জন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১৩ জন, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে একজন করে, খুলনা বিভাগে ১ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একটি কন্যাশিশুও রয়েছে। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬১ জন।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬২টি। আর পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ৭ হাজার ৯০০টি।  

বুলেটিনে জানানো হয়, করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিনটি ল্যাব। ঢাকায় বেড়েছে দুইটি এবং ঢাকার বাইরে একটি। ঢাকার দুটি হলো ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাভা হেলথ। আর ঢাকার বাইরে যেটি যুক্ত হয়েছে সেটি হলো শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ জামালপুর। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ১৫০ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬ জন। বর্তমানে আইসোলেনশনে আছেন ৩ হাজার ৪৩৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২  জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ২ হাজার ৫৫৮ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬২ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৪২ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৬১ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৫ হাজার ২২১ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, রমজানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।