দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৩ হাজার ৯ জন এবং মৃত্যু ৩৫

0
294

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৩৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮৭৮ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩২ হাজার ১৯৪ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৫ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ জন।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুধবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ৫ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬৮ জন পুরুষ এবং ৬৪৭ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ জন, খুলনা বিভাগে, সিলেট বিভাগে, রাজশাহী বিভাগে ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন করে এবং রংপুর বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন।

বিভাগ অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু ঢাকায় ১৪৫৮ জন, চট্টগ্রামে ৭৩৯ জন, রাজশাহীতে ১৭৯ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১১৯ জন, সিলেটে ১৪৬ জন, রংপুরে ১১৫ জন এবং ময়মনসিংহে ৬৫ জন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন।

এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৩১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৭৬ জন এবং ষাটোর্ধ এক হাজার ৩৯৪ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৪ হাজার ২৫৩টি এবং একই সময় ৮২টি ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ১২৭টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ লাখ ৫১ হাজার ২৫৮টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৮২৭ জনকে। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৪৯ হাজার ৩১৬ জন। এইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৬৯জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে গেছেন ১ হাজার ৯৫৫ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭০ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৭ হাজার ২৪৪ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।