দেশে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত ২,৯৬৫ জন এবং মৃত্যু ৩৭ জন

0
261

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৯৬৫ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০১ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ৯৬৫ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৩ জন।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সোমবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১২ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩২ জন পুরুষ এবং ৬৩৩ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন, খুলনা বিভাগে ও বরিশাল বিভাগে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন।

বিভাগ অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু ঢাকায় ১৪৩২ জন, চট্টগ্রামে ৭২৬ জন, রাজশাহীতে ১৭৪ জন, খুলনায় ২০৮ জন, বরিশালে ১১২ জন, সিলেটে ১৪০ জন, রংপুরে ১১১ জন এবং ময়মনসিংহে ৬২ জন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন।

এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৯৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪২২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৫৯ জন এবং ষাটোর্ধ এক হাজার ৩৫৪ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১২ হাজার ৫৪৪টি এবং একই সময় ৮০টি ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৮৫৯টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪১৭টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৫৫০ জনকে। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৬৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৭৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৪৭ হাজার ৭৭৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার সাতজন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে গেছেন ২ হাজার ৪৫১ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৭ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ৩৯০ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।