দেশে করোনায় মৃত্যু আরও ৩৫ জনের, নতুন আক্রান্ত ২,৬৩৫ জন

0
502

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৩৫ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৩৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫২১ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ২৬ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ৮৪৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৩২৫ জন।  শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর লিঙ্গভেদে শনাক্তের হিসাবে ৭১ শতাংশ পুরুষ এবং ২৯ শতাংশ নারী।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। এদের মধ্যে ২৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, ৯ জন বাড়িতে এবং হাসপাতালে আনার পর ১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গে ৮ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৯ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯০৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৪৮৬ টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১ টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩১৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৭ হাজার ১৬২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৯৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৯ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ২২২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮১১ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৯২৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৭ হাজার ২৯৮ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।