দেশে করোনায় মোট আক্রান্ত ১ লক্ষ ৭৫ হাজার এবং মোট মৃত্যু ২২০০ ছাড়ালো

0
570

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৩৬০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৪১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৭০৬ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪১ জনের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ, ১২ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং রাজশাহী বিভাগে, সিলেট বিভাগে ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন করে মৃত্যুবরণ করেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৯ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৭৬টি ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৬৩২টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৮৯ জনকে। এ প‌র্যন্ত আই‌সো‌লেশনে নেয়া হলো ৩৪ হাজার ২২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৬৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৫৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭ হাজার ৬৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ২৮২ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৮৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ১০৬ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।