দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত, সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সর্বোচ্চ সুস্থ

0
623

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৭১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৪৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন সর্বোচ্চ ৭৭৭ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৭৫ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ৯৭৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৩৭ জন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

মঙ্গলবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ। রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ১২ জন নারী। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গে ১১ জন, সিলেট বিভাগে, রাজশাহী বিভাগে ও রংপুর বিভাগে ২ জন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, করোনা পরীক্ষায় আরেকটি ল্যাব যুক্ত হয়েছে। এটি হচ্ছে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ। এ নিয়ে করোনা পরীক্ষায় দেশে ল্যাবের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬টিতে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ৬৬৪ টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৯৫টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৫৫৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১২ হাজার ৪২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২১৬ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৬০২ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ২৭ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৬ হাজার ৬৩৮ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।