দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২,৭৩৫ জন

0
320

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৩৫ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৪২ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৬৫৭ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৫০৪ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ৯৩০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৫৬০ জন।  

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সোমবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৭১ শতাংশ এবং নারী ২৯ শতাংশ। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ৯ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১২ জন। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গে ৮ জন, খুলনা, বরিশাল ও ময়মন‌সিংহ বিভা‌গে ২ জন করে এবং সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ২ জন। 

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫২টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৯৪৪টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩১ টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৯৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৭ হাজার ৫৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৪৪ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ২২৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫৩ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৭ হাজার ৭২ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।