দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ছাড়ালো

0
266

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫৩১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৩৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৭ জন।

রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

রবিবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ, ৪ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন এবং বাসায় ৬ জন। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জন, খুলনা বিভাগে ও বরিশাল বিভাগে ৪ জন করে, রাজশাহী বিভাগে ২ জন এবং রংপুর বিভাগে ও সিলেট বিভাগে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন। 

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৭১০ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৬০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৫৮৫টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার ১৬৪টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৬৩১ জনকে। এ প‌র্যন্ত আই‌সো‌লেশনে নেয়া হলো ১৯ হাজার ৮১৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৫৬ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৭ হাজার ৬২৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১২ হাজার ১৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ১৩২ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ২০৫ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।