দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত; হাজার ছাড়ালো আক্রান্তের সংখ্যা

0
279

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন। এনিয়ে মোট মারা গেলেন ১৮২ জন। এছাড়া একই সময়ে আরও ৬৮৮ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০,১৪৩।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন। ফলে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২০৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সুস্থ হওয়ার তথ্য জানা যায়নি। যদিও প্রায় ৭৯ শতাংশ রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুবরণকারীরা সবাই পুরুষ। তাঁদের তিনজন ষাটোর্ধ, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন। এঁদের তিনজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং বাকি একজন ময়মনসিংহের। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮২ জন।

বুলেটিনে জানানো হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩১৫টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৫ হাজার ২১৪টি। নমুনা সংগ্রহ আগের দিনের তুলনায় ২১ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬ হাজার ২৬০টি। আগের দিন পরীক্ষা হয়েছিল ৫ হাজার ৩৬৮টি। গতকালের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা সংগৃহিত হয়েছে ৮৭ হাজার ৬৯৪টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৯০ জনকে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৬৩৬  জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৯১ জন এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৭৩ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৯ হাজার ৬৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন দুই হাজার ৭৪২ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৪ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৪৮ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৪০১ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪১ হাজার ৯৩৩ জন।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ঢাকা শহর এবং ঢাকা বিভাগেই শনাক্তের সংখ্যা সর্বাধিক। ঢাকার পরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও  ময়মনসিংহ বিভাগ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক শনাক্ত হয়েছে ঢাকা শহরে। আর ঢাকা শহরের পরই অবস্থান নারায়ণগঞ্জের। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক শনাক্ত হয়েছে কুমিল্লা, সিলেট এবং হবিগঞ্জে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায় এবং খুলনা বিভাগের যশোর জেলায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায়, বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় এবং রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলায় সর্বাধিক শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয় বুলেটিনে।