দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টাইগারদের হার; সিরিজ জিতে নিলো কিউইরা

0
73

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল স্বাগতিকরা। 

ক্রাইস্টচার্চে টস হেরে প্রথমে ব্যাট নেমে তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ মিঠুনের হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ২৭১ রানের ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

এদিন শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশর। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আউট হয়ে যান লিটন দাশ। দ্বিতীয় ওভারে ম্যাট হেনরির চতুর্থ বলে পুল করতে গিয়ে শটে থাকা উইল ইয়ংয়ের ক্যাচে দলীয় ৪ ও ব্যাক্তিগত শূন্য রানে বিদায় নেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দেখেশুনে খেলন তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকার। এই জুটি ৮১ রান তোলে। তবে ভালো খেলতে থাকা সৌম্য মিচেল স্যান্টনারের বলে স্টাম্পিং হয়ে মাঠ ছাড়েন। ৪৬ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৩২ করেন এই বাঁহাতি।

দারুণ খেলতে থাকা তামিম ইকবাল দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৩৩ রানে মাথায় রান নিতে গিয়ে আউট হন তিনি। ১০৮ বলে ১১টি চারে ৭৮ করে টাইগার অধিনায়ক। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। ২১২তম ওয়ানডেতে এসে এদিন ৮৪ বলে ফিফটি করেন তিনি। এরপরেই দলীয় শতরান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

দলীয় ৪১তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। ৫৯ বলে ৩টি চারে ৩৪ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর দলীয় ২০০ রান করে বাংলাদেশ।

শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান মিঠুন। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা এই ডানহাতি ৫৭ বলে ৭৩ রান করেন। তিনি ৬টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। রিয়াদ ব্যক্তিগত ১৬ রানে বিদায় নেন।

কিউই বোলারদের মধ্যে ২টি উইকেট পান স্পিনার স্যান্টনার। এছাড়া বোল্ট, হেনরি ও জেমিসন নেন একটি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ভয়ঙ্কর মার্টিন গাপটিলকে নিজের বলেই ক্যাচ ধরে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ২৪ বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করেন এই কিউই ওপেনার।

এরপরই দ্রুত জোড়া সফলতা পান টাইগার স্পিনার মেহেদি হাসান। দলীয় নবম ওভারের তৃতীয় বলে হেনরি নিকোলসকে সরাসরি বোল্ড করেন তরুণ এই স্পিনার। স্বাগতিকদের রান তখন ৪৩। নিকোলাস ফিরেন ১৩ রান করে। ব্যক্তিগত ২য় ওভারে দলীয় ১১তম ওভারে মেহেদি হাসানের শিকার হন উইল ইয়ং (১)। তিনিও সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরেন দলীয় ৫৩ রানে।

এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে কিউইরা। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে নিয়ে ১১৩ রানের জুটি গড়েন ডেভন কনওয়ে। অবশেষে তামিম ইকবালের থ্রোতে রান আউটের শিকার হন কনওয়ে। ৯৩ বলে ৭টি চারে ৭২ রান করেন এই ব্যাটসম্যান।

কিন্তু এরপর বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে জিমি নিশামকে সঙ্গে নিয়ে ৭৬ রানের জুটি গড়েন ল্যাথাম। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিও তুলে নেন ল্যাথাম। ১০৮ বলে ১০টি চারে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

তাসকিনের করা ইনিংসের ৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৩ রানে খেলতে থাকা জিমি নিশাম। কিন্তু সেটি রাখতে পারেননি মুশফিক। একই ওভারে শর্ট মিডঅফে দাঁড়িয়ে হাঁফ চান্সকে উইকেটে পরিণত করতে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ মিঠুন।

পরের ওভারে টম লাথাম ফিরতি ক্যাচ দেন শেখ মেহেদির হাতে। কিন্তু সহজ সেই সুযোগ হাতে রাখতে পারেননি মেহেদি। ফলে জীবন পেয়ে যান মাত্র ৫৮ রানে খেলতে থাকা লাথাম। এ দুজনই মূলত ম্যাচ শেষ করার কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেন।

জয়ের জন্য যখন মাত্র ২০ রান বাকি, তখন ৩৪ বলে ৩০ রান করা নিশামকে সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজ। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় টাইগারদের। এরপর ড্যারেল মিচেলকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ফেরেন লাথাম। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে দলকে জেতানোর পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে মেহেদি ও মোস্তাফিজুর দুটি করে উইকেট পান।