দ্বিতীয় দফায় ফের ২ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

0
1589

করোনার নমুনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতির মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। পরে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তেজগাঁও থানার করা প্রতারণার মামলায় তাকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে চারদিনের রিমান্ডে চেয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষ হয়।

একই মামলায় সাবরিনার স্বামী জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। আরিফুলকে গত বুধবার ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডে আরিফুল ও সাবরিনার পৃথক বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। গতকাল তাঁদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে গতকাল তা পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বাসা থেকে টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পরীক্ষা ছাড়াই নমুনার ফল দেওয়ার অভিযোগে তেজগাঁও থানা–পুলিশ গত ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবরিনাকে ১২ জুলাই দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এই মামলায় গ্রেপ্তার জেকেজির সাবেক কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর ও তাঁর স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিলেন, তাঁরা বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতেন। বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ও বিদেশিদের কাছ থেকে ১০০ ডলার নিতেন। নমুনা সংগ্রহের পর তা ড্রেনে বা ওয়াশরুমে ফেলে তাঁরা নষ্ট করে ফেলতেন। নমুনা সংগ্রহের সময় তাঁরা শারীরিক লক্ষণের বিষয়ে একটি ফরম পূরণ করতে বলতেন। সেই লক্ষণের আলোকেই নিজেদের মনমতো পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতেন।