শারমিন আজাদ :

২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে নবম-দশম শ্রেণীর বিনামূল্যে বিক্রির বোর্ডের বই দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বাংলাবাজারে। এসব বই সবার চোখের সামনেই থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে দোকানীরা। তবে কিছুটা রেখে ঢেকে বিক্রি হচ্ছে নীলক্ষেতে। দোকানীদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরাই তাদেও কাছে বিক্রি করেন এসব বই। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, লোকবলের অভাবে জোরেসোরে মনিটরিং সম্ভব না তাদের পক্ষে।

বাংলাবাজার ডাকঘরের সামনে ফুটপাথে নতুন বই পাওয়া যাবে এমন তথ্য পেয়েই এখানে আসা। তবে মাই টিভির ক্যামেরা দেখেই দোকান রেখে দৌড়ে পালায় বিক্রেতা। তিনি গিয়ে আশ্রয় নিলেন যে ভবনটিতে, সেখানকার বিক্রেতারা অবশ্য অস্বীকার করলেন তাকে চেনার কথা। তাকে একটু খোঁজাখুঁজি করতেই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হল।

সেখান থেকে বেরিয়ে সামনে এগুতেই দেখা গেল সারি সারি ফুটপাতের দোকান পলিথিন দিয়ে ঢেকে গায়েব বিক্রেতা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই এদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সতর্ক করে দিয়েছে একে অপরকে।

তবে প্রতিটি দোকানের পর্দা সরাতেই ঝলকে উঠলো নতুন বইয়ের মলাট। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিটি বই-ই নতুন শিক্ষাবর্ষের। নীলক্ষেতেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বোর্ডের বই। অনেকেই প্রথমে বই আছে বলে জানালেও পরে ক্যামেরা দেখে ভোল পাল্টেছেন।

এনসিটিবি জানায়, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নির্ধারিত ৩২ টি ও মাধ্যমিকের জন্য ১০০টি প্রেসের বাইরে অন্য কোন প্রেসে বই মুদ্রণ হয়ে থাকে যা খোলাবাজারে বিক্রি হয়। ক্রেতারা বললেন, বই হারিয়ে গেলে এখানে আসেন বই সংগ্রহ করতে।

জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি জানায়, বই হারালে তা কেনার নিয়ম নেই। বিনামূল্যে বিক্রির বই কি-করে বাংলাবাজার থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত, তার সদুত্তর নেই ব্যবসায়ীদের কাছে।