নরসিংদীর শিবপুরে স্ত্রী ও বাড়িওয়ালা দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যা

0
303

নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঠেকাতে আসা বাড়িওয়ালা ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।

রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাদল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

বাদল মিয়া শিবপুর উপজেলার পুটিয়ার কুমরাদী এলাকার একজন কাঠমিস্ত্রি। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা ও তাঁর আগের সংসারের ৪ সন্তানকে নিয়ে ওই এলাকার তাইজুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। বাদলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায়।

নিহতরা হলেন বাদল মিয়ার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৪৫),বাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম (৬০) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০)।

আহত হয়েছেন-বাড়ির মালিক তাজুল ইসলামের মেয়ে কুলসুম (২৩), ভাড়াটিয়া নাজমার আগের সংসারের ছেলে সোহাগ (১৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাদল ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে নাজমাকে কুপিয়ে জখম করেন বাদল। এ সময় তাঁর ছেলে সোহাগ এগিয়ে গিয়ে বাড়িওয়ালা তাইজুল ও তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সাহায্য চান। এ সময় বাড়িওয়ালার মেয়ে কুলসুম কী হয়েছে জানতে ঘটনাস্থলে যান। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সোহাগ, তাইজুল, মনোয়ারা ও কুলসুমকে ওই ছুরি দিয়েই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন বাদল। সকাল ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদলকে আটক করে এবং আহত ৫ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায়। নাজমা ও মনোয়ারাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে তাইজুল, সোহাগ ও কুলসুমকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাইজুলের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে নরসিংদীর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ও ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।