নারী-পুরুষের ব্যবধান কমবে শত বছর পর

0
94

অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে সমান ক্ষমতা দেয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বৃহৎ সংগঠন। বিগত শতকে যথেষ্ট সাফল্যও এসেছে। তবে সম্প্রতি একটি নেতিবাচক খবর দিয়েছে অর্থনীতি পর্যবেক্ষক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

সংস্থাটি  ১৪৪টি দেশের প্রতিবেদন থেকে ফোরাম নারী-পুরুষের ব্যবধান বিষয়ক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। নারী ও পুরুষের বৈষম্য নিয়ে ম্যাপিং ২০০৬ সাল থেকে ম্যাপিং শুরু করেছে তারা। তবে এই প্রথমই সংস্থাটি বলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী ‘জেন্ডার গ্যাপ’ নিরসনে খানিকটা অবনতি দেখা যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ১৪৪টি দেশের প্রতিবেদন থেকে ফোরাম নারী-পুরুষের ব্যবধান বিষয়ক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলছে, যে চার ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে তারা নারী-পুরুষের সম্ভাবনা যাচাই করেছে এখনকার হারে সেসব ক্ষেত্রে ব্যবধান কাছাকাছি আসতেও অন্তত একশ বছর লাগবে। অথচ গত বছরও ভাবা হচ্ছিল, ব্যবধান শূণ্যের কাছাকাছি আসতে লাগবে মাত্র ৮৩ বছর।

যেসব ক্ষেত্রে পুরুষদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ, এখন নারীদের সেসব ক্ষেত্রে সম্ভাবনা মাত্র ৬৮ শতাংশ। গত বছরও এই হার খানিকটা বেশি ছিল, ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই নারী-পুরুষের ব্যবধান সবচেয়ে কম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তালিকায়ও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বাংলাদেশ এখন ৪৭ নম্বরে।

ডব্লিউইএফ এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান কমে আসলেও অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য রয়ে গেছে ।

এখনকার হারে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সমান আয় ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে নারীকে আরও ২১৭ বছর পাড়ি দিতে হবে বলেও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তারা বলছে, নর্ডিক দেশগুলোতে তুলনামূলকভাবে নারী ও পুরুষের ব্যবধান কম। যে চার ক্ষেত্রকে আমলে নিয়ে প্রতিবেদন সাজিয়েছে ইকোনমিক ফোরাম, তাতে মাত্র ১২ শতাংশ ব্যবধান নিয়ে আইসল্যান্ডের অবস্থান সবার শীর্ষে।

নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সঙ্গে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডাও। দেশটির রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের চিত্র ঈর্ষনীয়, প্রতি পাঁচজন সাংসদের তিনজনরই নারী। সমতার ক্ষেত্রে ব্যবধানও তাদের কম, মাত্র ১৮ শতাংশ।

কম ব্যবধানের তালিকায় উপরের দিকের দেশগুলোর মধ্যে আছে নিকারাগুয়া, স্লোভেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড। শীর্ষ দশে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি ফিলিপিন্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারীর অবস্থান শোচনীয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তালিকায় ইয়েমেনকে নারী-পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইকোনমিক ফোরাম বলছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে থাকার কারণ কেবল কম বেতন নয়; তারা পুরুষের তুলনায় বেশি অবৈতনিক কিংবা পার্ট-টাইম কাজ করে।

কোম্পানিগুলোতেও নারীদের বেতন বেশি এমন উঁচু পদে দেখা যায় না। ১৪৪টি দেশের মধ্যে স্লোভেনিয়াতেই নারীরা পুরুষের কাছাকাছি আয় করতে পারে; তাদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮০ শতাংশের খানিকটা উপরে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমকি ফোরাম বলছে, নারী ও পুরুষের ব্যবধান যদি শূণ্যে নামিয়ে আনা যেত তাহলে এই মুহুর্তেই চীন তার জিডিপিতে যোগ করতে পারতো দুই দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে কম বলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমকি ফোরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গত বছরের চেয়ে চার ধাপ পিছিয়েছে, তারা এখন ৪৯-এ।

নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো উন্নতি হয়েছে সাব-সাহারান দেশগুলোর। সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক আছে বিশ্বের এমন ২০টি দেশের ৯টিই এ অঞ্চলের।