সাইদুর রহমান আবির:

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর নিচে নেমে যাচ্ছে প্রায় তিন মিটার। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সহজে পানি পাওয়া নিয়ে হুমকির মুখে পরার আশংকা রয়েছে বাংলাদেশের।

এমন পরিস্থিতিতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং অর্থাৎ বৃষ্টির পানি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই বলে জানালেন পানি বিশেষজ্ঞরা।

ইতিমধ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

নদীমাতৃক বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার প্রায় সবটাই বর্তমানে নির্ভর করছে ভূগর্ভস্থ পানির উপর।

সত্তর দশকের শুরুতে কৃষিকাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার শুরু হয়। আর আশির দশক থেকে এর ব্যাপকতা পায়। গত চার দশকে দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে শতভাগ।

দৈনন্দিন কাজের জন্য পানির এই উৎসের উপরই নির্ভরশীল হয়ে পরছে মানুষ। এখন চাহিদার প্রায় আশি শতাংশই মেটাতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে।

আর এভাবে প্রতিনিয়ত পানি উত্তোলন করলে রাজধানীসহ সারাদেশেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।

দেশের পানি উত্তোলন এবং সরবরাহের এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পানি ব্যবহার জরুরি। বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে এক হাজার দুইশ থেকে তিন হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায়, তাই এসব অঞ্চলে রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং অর্থাৎ বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করলে সুফল বয়ে আনা সম্ভব।

রিপোর্টার: সাইদুর রহমান আবির

বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থের স্তর হুমকির মুখে জানিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর জোড় দিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে এবং আরো ইতিবাচক অনেক দিক বিবেচনা করে বৃষ্টি পানি সংরক্ষণের বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে দেশের মানুষের আরো উদ্যোগী ও সচেতন হতে হবে বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।

রেইন ওয়াটার প্রাচীনকালে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা ব্যবহার করা হতো গৃহস্থালির নানাবিধ এবং বাগান তৈরির কাজে।