নির্বাচনে পরাজয় হলেও রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে : ওবায়দুল কাদের

0
84

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় ঘটলেও এতে গণতন্ত্রের ও রাজনীতির জয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শান্তিপূর্ণ একটা নির্বাচনের রেকর্ড রেখে যাচ্ছে।

“এটাকে আমি বলব, গণতন্ত্রের বিজয়। আমরা এই নির্বাচনের ফলাফলকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসাবে দেখছি।”

আওয়ামী লীগের জোট শরিক জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর সিটি করপোরেশনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হয়।

সন্ধ্যায় ভোটগণনা চলার মধ্যে ওবায়দুল কাদের যখন ওই বক্তব্য দেন সে সময় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হয়। তাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুউদ্দীন আহমেদ ঝণ্টুর চেয়ে কয়েক হাজার বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান। বিদায়ী মেয়র ঝণ্টু তার নিজের কেন্দ্রেও হেরেছেন প্রতিন্দ্বন্দ্বী ফিজারের কাছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে মাত্র তিন মিনিট সময় দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বৃহস্পতিবার গুপপাড়ার সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বৃহস্পতিবার গুপপাড়ার সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক নারী। দলীয় প্রার্থীর হার আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমার প্রতিফলন কি না-প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে আমরা বিজয় লাভ করেছি, কুমিল্লায় আমাদের পরাজয় হয়েছে। সব নির্বাচনে কি জয়ী হতে হবে? এই নির্বাচনকে আমরা রাজনৈতিকভাবে দেখছি।”
নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির জন্য এই নির্বাচন একটি বার্তা বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

“আমরা মনে করি, এই নির্বাচনের রেজাল্ট জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির জন্য একটা মেসেজ।”

দলীয় সরকারের অধীনে হওয়ায় ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি বলছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দেশে কোনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই তাদের।

তাদের এই দাবি নাকচ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় শুধু ‘রুটিন’ কাজ করবে সরকার। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, সেখানে সরকারের প্রভাব বিস্তারের কোনো প্রশ্ন নেই।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের সেই বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন ওবায়দুল কাদের।

“এই নির্বাচনে আমাদের নিবাচনী পরাজয় হয়েছে, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক বিজয় হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।”

নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হবেন, তাকে অগ্রিম অভিনন্দন জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।