নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে বিএনপি : ওবায়দুল কাদের

0
80

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে বিএনপি। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুজা উৎযাপন পরিষদের দ্বি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন দেশকে অসাম্প্রদায়িক চেনতার পথে এগিয়ে নিতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্সে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীর মামলা এবং জামিন নিয়ে ‘অবিরাম মিথ্যাচার’ করে যাচ্ছেন। “দণ্ড দিয়েছে আদালত, তাকে মুক্তিও দিতে পারে আদালত, জামিনও দিতে পারে আদালত। আওয়ামী লীগ সরকার জামিন দিতে পারে না।”

খালেদার মুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার এখন বিচার বিভাগকেও কাজে লাগাতে চাইছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি করেছে তারও জবাব দেন কাদের। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগ যদি সরকারের কথায় চলত, তাহলে বেগম জিয়ার জামিন হল কি করে?”

খালেদার মুক্তির জন্য বিএনপির আন্দোলনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এক মামলার জামিন হয়েছে। তার মানে হচ্ছে এই সরকারের আমলে বিচার বিভাগ স্বাধীন। অপেক্ষা করুন। আন্দোলনে আপনারা পারবেন না, মরা গাঙ্গে জোয়ার আসে না।”

নির্বাচনে বিএনপির হারের ধারা শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “পর্যবেক্ষকরা বলছে, খুলনায় দু-তিনটা অনিয়ম ছাড়া প্রত্যেকটাতেই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপি এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি। এক লাখ দশ হাজার ভোট পেয়েছে। নির্বাচন ফেয়ার না হলে বিএনপি এত ভোট পেত?”

‘নেতিবাচক রাজনীতির’ কারণেই বিএনপির ভোট কমে যাচ্ছে মন্তব্য করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “বার কাউন্সিলেও শুনি নতুন অভিযোগ, এখানেও নাকি কারচুপি হয়েছে। কোথায় হল? বার কাউন্সিলের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রত্যেকেই কিন্তু জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এখানেও কারচুপি? এরা আসলে আগামী নির্বাচনে জিতবে এ ধরনের আশা হারিয়ে ফেলেছে।”

কাদেরের ভাষায়, নির্বাচনে ‘হেরে যাওয়ার ভয়েই’ বিএনপি এখন ছল ছুতো করে ভোট থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে।

“আমরা নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী চাই। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা নির্বাচনে আসবে কি না। এর জন্য আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।”

মঞ্চে বসা ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাদের এ সময় বলেন, “বিদেশিরা কি আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে? মিস্টার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, তার দেশ কি আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ। তারা (ভারত) আমাদের বন্ধু। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আমরা সুদৃঢ় করতে চাই।… বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চাই।”

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দাস দীপুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।