হাসান জাকির : 

অপরাধীদের প্রকাশ্যে ডান্ডাবেড়ি পড়িয়ে পায়ে হাটিয়ে আদালতে হাজির করা কিংবা এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তরের বিধান না থাকলেও এমন ঘটনা চোখে পড়ে মাঝে মধ্যেই। আর এখানে পুলিশও থাকে অনেক সময়ই নিরস্ত্র। এসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের অপরাধ ঘটার আশংকা থেকে যায়।

কিন্তু কেন নিরাপত্তাহীনতায় আসামী স্থানান্তর তাই খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এবারের ঘটনার অন্তরালে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম দিয়ে ডান্ডা বেড়ি পরিহিত এক ব্যাক্তিকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ২ জন পুলিশ সদস্য। কিন্তু বিধান অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমেত অপরাধীদের স্থানান্তর কিম্বা আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও এমন নিরস্ত্র ভাবে কেন নিয়ে যাচ্ছে ঐ দুই পুলিশ সদস্য।

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে মাইটিভির ঘটনার অন্তরালে টিমের যাত্রা, ঢাকার আদালত পারায়। সংশ্লিষ্টদের কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নাহলেও গারদ খানার বাহ্যিক চিত্রই বলে দেয়, অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হয় কঠোর নিরাপত্তা ও সুনির্দিষ্ট প্রিজন ভ্যানে করে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার কথায় নিশ্চিৎ হওয়া গেছে, যে ডান্ডা বেড়ি পরিহিত যে কোন অভিযুক্ত ব্যাক্তিই দুর্ধর্ষ। তবে তার কথায়, বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তদের অরক্ষিত অবস্থায় স্থানান্তরে বিভিন্ন অপ্রতিকূল পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে।

# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সুনির্দিষ্ট ব্যাক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি।

# অভিযুক্ত ব্যাক্তির মানবাধিকার খর্বের প্রশ্ন।

# প্রিজন ভ্যান স্বল্পতা ও সময় স্বল্পতা।

আর আইনজীবী সমিতির সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী এভাবে প্রকাশ্যে যেকোন অভিযুক্তকে স্থানান্তর ঐ ব্যাক্তির মানবাধিকার খর্বের সামিল।

যদিওবা অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অভিযুক্ত ব্যাক্তি কিম্বা কোন ধরনের অপরাধীকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে  আরো বড় ধরণের অপরাধ সংঘটিত হবার আশঙ্কা থেকেই যায়।