নীলফামারীর নদীগুলো এখন পরিণত হয়েছে আবাদী জমিতে

0
49

আজিজুল ইসলাম বুলু:

নীলফামারীর ২২টি নদী এখন আর নদী নেই। সময়ের পরিক্রমায় এক সময়ের খর¯্রােতা নদীগুলো এখন পরিণত হয়েছে আবাদী জমিতে।

এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে জেলে সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য। এই নদীগুলো খনন করা হলে এর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এক সময় জেলার নদীগুলোতে বুকজুড়ে ছিল বুড়িতিস্তা, বুড়িখোড়া, রাদুম, নলডাঙা, নাওতুরি, খড়খড়িয়া, চিকলিসহ ২২টি নদ-নদী।

নদীগুলোর প্রবাহমান স্রোতের সাথে মিশে ছিল এই জনপদের ঐতিহ্য। দুকূল ছাপিয়ে ক্রমাগত ¯্রােতের সাথে চলতো পালতোলা নৌকা। চলতো ডিঙি ও বজরাও।

নদীগুলোতে বহু ধরনের মাছও পাওয়া যেতো। আগে নদীগুলো গভীর ও প্রশস্ত অনেক বেশি ছিল। এখন নদীগুলো খালে মরা খালে পরিণত হয়েছে বলে নদীর আদি ইতিহাসের কথা জানান স্থানীয়রা।

ক্রমাগত স্রোতধারা থাকলেও এখন আগের স্রোতধারা নেই। নদীরবক্ষজুড়ে এখন চাষ হচ্ছে ধান, গম, পেঁয়াজ ও তামাকসহ নানান ধরনের ফসল। এই বিশাল নদী বিখ্যাত ছিল। মাছ ছিল নদীতে।

নীলফামারী-৩ আসনের এমপি গোলাম মুস্তফা বলেন, জেলায় যতগুলো নদী রয়েছে নদীগুলো পলি ও বালু দিয়ে ভরাট হয়েছে। ফলে নদীর পানি দুইপাড় উপচে পড়ে তাতে আশপাশের জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। নদীর দুই পাড়ের বাঁধ টিকতে পারে না।

এদিকে নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহিম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নদী শাসন ও নদী খনন করার কথা জানান রহিম।

নীফামারীর নদী গবেষক অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম বলেন, গোটা উত্তরাঞ্চলে নদীগুলোর ভরাট হুমকিতে পড়ছে জীব বৈচিত্র। ২২টি নদী খনন করা দরকার। এই নদীগুলো খনন করলে পানির প্রবাহ ও মাছের সংখ্যাও বাড়বে বলে জানান তিনি।