নেপালে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি, প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বামজোট নেতা ওলি

0
107

নেপালে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি, প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বামজোট নেতা কেপি শর্মা ওলি। নেপালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পথে রয়েছে বামপন্থী জোট। মাওবাদী বিদ্রোহী এবং কমিউনিস্ট দল নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এই জোট গঠন করেন।

প্রথম দফায় ২৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফায় ৭ ডিসেম্বর নেপালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এএফপি জানায়, নির্বাচনে বামপন্থী জোট নিরাপদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে ফের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ভারতবিদ্বেষী কেপি শর্মা ওলি। বিষয়টি চীনের জন্য স্বস্তি ও ভারতকে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই নির্বাচনকে রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি এবং গৃহযুদ্ধের পর গণতন্ত্রের পথে যাত্রা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। গত নয় বছরে নেপালে প্রধানমন্ত্রী পদে রদবদল হয়েছে ১০ বার। বিশৃঙ্খলার সুযোগে দেশটিতে বেড়েছে দুর্নীতি।

অর্থনৈতিক অগ্রগতিও থমকে গেছে। দশকব্যাপী রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শেষে একটা কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশটির উত্তরণের ক্ষেত্রে এ নির্বাচনকে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপাল ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এর দুই বছর পর ২০১৮ সালে প্রায় ২৪০ বছরের হিন্দু রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি হয়।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা গেছে, ৮৪টি আসনে জয় পেয়েছে বামপন্থী জোট। আরও ৩১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা।

পার্লামেন্টের ২৭৫টি আসনের মধ্যে ভোটের ভিত্তিতে ১৬৫টি আসনের ফলাফল নির্ধারিত হবে। বাকি ১১০টি আসন নির্ধারিত হবে ভোটের আনুপাতিক হারে। নেপালের নিকট-অতীতে সরকার গঠন করে তিনটি প্রধান দল। এর মধ্যে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি ও মাওবাদী দল জোট করেছে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (ইউএমএল) সঙ্গে।

এদের পরিচয় বাম জোট নামে। আর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস ঐক্য গড়েছে ছোট কয়েকটি দলের সঙ্গে। এদের পরিচয় গণতান্ত্রিক জোট নামে। দেউবার নেপালি কংগ্রেস ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচিত। আর বাম জোট চীনঘেঁষা।

দুটি শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মাঝে নেপাল অনেকটা বাফার স্টেট। কোন জোট ক্ষমতায় আসছে তার ওপর নির্ভর করছে চীন বা ভারতকে ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করবে। প্রাথমিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্রোহী ও কমিউনিস্ট জোটের জয়ের আভাসে এটাই অনুমান করা যায় যে, নেপালে চীনা প্রভাব বাড়বে।

ভারত উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, দেশটিতে চীন তাদের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক আধিপত্যকে আরও শক্ত করতে পারবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে থাকা ভারতের প্রভাব খর্ব হবে। এছাড়া পররাষ্ট্রনীতিতেও ভারত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত বছর থেকেই কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ২০১৬ সালে ওলি চীন সফর করেন। এ সময় তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে পরিবহন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তিতে চীনা বন্দরগুলো ব্যবহার এবং চীন ও নেপালের মধ্যে রেললাইন স্থাপনের বিষয়ও রয়েছে।

নেপালে চীনা পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও উভয় দেশ চিন্তা-ভাবনা করছে। একে নেপালের ভূখণ্ডে ভারতনির্ভরতা কমানোর সরাসরি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল বলেন, ‘বামপন্থী সরকার, বিশেষ করে ওলি প্রধানমন্ত্রী হলে নেপালের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা কঠিন সমীকরণে গিয়ে দাঁড়াবে।’