পদ্মা সেতুতে বসে গেল শেষ স্প্যান; দৃশ্যমান সম্পূর্ণ সেতু

0
332

পদ্মা সেতুতে বসেছে সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি (২-এফ)। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শেষ হয় স্প্যানটি বসানোর কাজ। এর মাধ্যমে যুক্ত হলো পদ্মার এপার-ওপার। দৃশ্যমান হলো ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরো সেতু।

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) কাছে নিয়ে যেতে যাত্রা শুরু করে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। আর বসানোর কাজ শেষ হয় বেলা ১২টার দিকে।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, বুধবার দুপুর ২টায় স্প্যানটি নিয়ে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই-এর রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে বিকেল সোয়া ৫টায় রওনা দেয়।

পদ্মা সেতুর একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার বলেন, এখানে অনেক সময় কুয়াশা এত বেশি হয় যে দুই ফুট দূরত্বেই কিছুই দেখা যায় না। কুয়াশার কারণে যদি বিঘ্ন না ঘটে তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে স্প্যান বসানো সম্ভব হবে।’

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘৪০তম স্প্যান বসানোর ৬ দিনের মাথায় সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে মাঝ নদীতে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে (পিলারের ওপরের প্ল‌্যাটফরম) ৪১তম স্প্যানটি বসানো হয়। এর আগে রাতে ভাসমান ক্রেনে করে স্প‌্যানটি নির্ধারিত পিয়ারের কাছে নেওয়া হয়। 

সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুতে এ পর্যন্ত ৪১টি স্প্যান বসানো হলো। বন্যা, নদীভাঙন, চ্যানেলে নাব্যতা সংকট, করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে একে একে এসব স্প্যান বসানো হয়।

এদিকে, স্প্যান বসানো ছাড়াও অন্যান্য কাজও এগিয়ে চলছে। জানা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হচ্ছে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ২৩৯টির বেশি স্ল্যাব। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৮৬০টির বেশি স্ল্যাব।  

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বসানো হয় ৪০তম স্প্যানটি। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসে। সেই হিসেবে তিন বছর দুই মাস ১০ দিনে বসানো শেষ হলো সেতুর সবকটি স্প্যান। ৪২টি পিয়ারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

বহুমুখী এ সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব‌্যয়ে এই সেতুর নির্মাণকাজ চলছে।