পাচারকারী থেকে উদ্ধার ৮ জেব্রা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত

0
68

ভারতে পাচারকালে যশোর থেকে উদ্ধার হওয়া ১০টি জেব্রার মধ্যে জীবিত ৮টি জেব্রাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি পুরুষ ও ৭টি মাদি জেব্রা। তবে সবগুলো জেব্রাই শারীরিকভাবে দুর্বল। এদের মধ্যে একটি জেব্রা খুড়াচ্ছে।

গাজীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারী সার্জন মো. নিজাম উদ্দিন জানান, যশোর হতে উদ্ধারকৃত জীবিত ৮টি জেব্রার মধ্যে একটি পুরুষ ও ৭টি মাদি জেব্রা। তবে সবগুলো জেব্রাই শারীরিকভাবে দুর্বল। এদের মধ্যে একটি জেব্রা খুড়াচ্ছে। তাদের দ্রুত চিকিৎসা দেয়া দরকার।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব মিয়া ও পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, গত বছরের মে থেকে এ বছরের মার্চে জন্ম নেয়া তিনটি শাবকসহ গাজীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১৪টি জেব্রা রয়েছে। নতুন ৮টি জেব্রাসহ ওই পার্কে জেব্রা পরিবারের সদস্য সংখ্যা এখন ২২ এ দাঁড়িয়েছে।

যশোর ডিবি পুলিশের এসআই মো. মুরাদ হোসেন জানান, পাচারকারীরা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া-সাতমাইল গরুর হাটে ১০টি জেব্রা আনে। জেব্রাগুলো ওই হাটে তুতু নামে এক ব্যক্তির গরুর খোয়াড়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ সেখানে পৌঁছার আগেই একটি জেব্রা মারা যায়। পুলিশ জেব্রাগুলো উদ্ধার করে যশোর পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়। এরপর জীবিত অবশিষ্ট ৯টির মধ্যে আরও একটি জেব্রা মারা যায়। উদ্ধারকৃত জেব্রাগুলো বুধবার স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে এসআই মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে শার্শা থানায় পাচার ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এগুলোকে ভারতে পাচারের উদ্দেশে বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছিল পাচারকারীরা।

মামলায় যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালি উত্তরপাড়ার মো. মুক্তি (৪৩), বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বশিকুড়া গ্রামের আহাদ আলী সরদারের ছেলে কামরুজ্জামান বাবু (৩২), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে রানা মিয়া (২৮) ও ঢাকার উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের জনৈক জসিমকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাবু বর্তমানে ঢাকার তুরাগ থানার ফুলবাড়ী টেকপাড়ার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৬১ নম্বর বাড়ির রুহুল আমিনের ভাড়াটিয়া।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার সাংবাদিকদের জানান, বুধবার বিকেলে জীবিত ৮টি জেব্রাকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের বন পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ জেব্রাগুলো গ্রহণের পর সেগুলোকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে পাঠান। জেব্রাগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের সাফারী পার্কে নেয়া হলে বন্যপ্রাণী ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুলনা অঞ্চলের ফরেস্টার মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে জীবিত ৮টি জেব্রাকে বুঝে নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন জানান, নতুন আনা জেব্রাগুলো বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন বছর এবং অপ্রাপ্ত। এগুলোকে তিনসপ্তাহ সঙ্গরোধ অবস্থায় এ পার্কে রাখা হবে। জেব্রাগুলোর দেহে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো রোগ ব্যাধি রয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে দেখা হবে। এদের স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে এগুলোকে প্রথমে গ্লুকোজ মিশ্রিত খাবার পানি দেয়া হয়েছে। খাবার হিসেবে মূলতঃ ভুট্টা, গম, ঘাস, গাজর, ছোলা, গমের ভুষি দেয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত বয়ষ্ক বা সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরের জেব্রা বছরে একটি করে বাচ্চা দেয়। জেব্রাগুলোর বাজার প্রায় ৮০লাখ টাকা। আপাতত এ জেব্রাগুলোকে মুল বেষ্টনীতে রাখা হবে। বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার তাদের মূল বেষ্টনীতে নেয়া হবে। তিন সপ্তাহ পর এদের দর্শনাথীদের জন্য মূল বেষ্টনীতে নেয়া হবে।