পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ নিউইয়র্কে খুন

0
381

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও সার্ভিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর ম্যানহাটানে খুন হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ১৪ জুলাই বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফাহিমের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মঙ্গলবার বিকালে ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। ফাহিমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার আত্মীয় আতাউর বাবুল।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাহিম সালেহর বোন পুলিশকে ৯১১ নম্বরে ফোন করে জানান, তিনি তাঁর ভাই ফাহিম সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পুলিশকে তিনি একটু খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন। বোনের ফোন পেয়েই বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে একা থাকা ফাহিম সালেহকে খুঁজতে যায় পুলিশ। অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ব্যাগ ও একটি ইলেকট্রিক করাতের পাশে ফাহিম সালেহর লাশ দেখতে পায় পুলিশ। ইলেকট্রিক করাত দিয়ে মৃতদেহ থেকে হাত, পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে পাশের একটি ব্যাগে রাখা হয়। এনওয়াইপিডি পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে।

এনওয়াইপিডির বরাত দিয়ে নিউইয়র্কের ‘ডেইলি নিউজ’ পত্রিকা জানিয়েছে, সোয়া দুই মিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া ক্ষতবিক্ষত লাশটি ফাহিম সালেহর। বাংলাদেশে পাঠাও কোম্পানিতে নিজের শেয়ার বিক্রি করে নাইজেরিয়াতে একই ধরনের ব্যবসা শুরু করেছিলেন পেশায় ওয়েব ডেভেলপার ফাহিম সালেহ । গত জানুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় ‘গোকাডা’ নামের কোম্পানিটি সরকারি নিষেধাজ্ঞায় পড়ে।

ফাহিম সালেহর জন্ম ১৯৮৬ সালে। তাঁর বাবা সালেহ উদ্দিন চট্টগ্রামের, আর মা নোয়াখালীর মানুষ। ফাহিম পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে। ফাহিম সালেহ গত বছর ম্যানহাটনের ডাউনটাউনে অ্যাপার্টমেন্ট কিনেন। তিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা। ২০১৪ সালে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় গিয়ে পাঠাও চালু করে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন তিনি। ফাহিম নাইজেরিয়া ও কলম্বিয়ায় এমন আরও দুটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানির মালিক। ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশেও তিনি ব্যবসা বিস্তৃত করেছিলেন।