পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার রায় ১২ অক্টোবর

0
757

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ১২ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার ঢাকা মহানগরের ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আসামি পক্ষের অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে এ মামলার দুই আসামি পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুরকে আদালত তোলা হয়। এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত উল্লাহ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে আদালত এ রায়ের দিন ধার্য করেন। 

গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অস্ত্র আইনে করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন পাপিয়া দম্পতি। পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপনে এ মামলার আসামি পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি করেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামি পক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। পরে আসামি মফিজুর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী এ এফ এম গোলাম ফাত্তাহ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। তবে আসামি পাপিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী শাখাওয়াত উল্লাহ ভূইয়া আংশিক যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত পাপিয়ার পক্ষে অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। 

যুক্তিতর্ক শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। আশা করছি রায়ে তারা খালাস পাবে।

গত ২৩ আগস্ট পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুরের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ৩১ আগস্ট মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষী র‌্যাবের উপপরিদর্শক সাইফুল আলম আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরে ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্য শেষ হয়। এদিন আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাবের উপ পরিদর্শক আরিফুজ্জামানের  সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। 

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই সহযোগীসহ পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে আটক করে র‌্যাব।

এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

পরে পাপিয়ার ফার্মগেটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড জব্দ করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।