পুত্রের ঈদের জন্য পিতা ভিক্ষুকবেশে

0
74

এম. এস. রুকন: মুসলিম বিশ্বে সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদুল আযহা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলমান দেশ হিসেবে আমাদের দেশে এ উৎসবের যৌলসতা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ঈদ মানে আনন্দ-ঈদ মানেই খুশি। ধনী-গরিব ছোট-বড় নানা শ্রেণি পেশার মানুষের কাছেই প্রথম পছন্দ। ঈদের দিন চাই নতুন জামা পরার আনন্দ।

কিন্তু আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে। নতুন জামা পরা তো দূরের কথা যাদের লবন আনতেই পান্তা ফুরিয়ে যায়। দারিদ্র পিড়িত সেই পরিবারের কর্তা ব্যাক্তিদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। উৎসব আনন্দের দিন গুলোকে সামনে রেখে, লজ্জার মাথা কেটে, পুত্রের মুখে হাসি ফুটাতে নির্লজ্জের মত সমাজের সর্বনিকৃষ্ট বৃত্তিতে নেমে পড়তে হয়।

তেমনি এক অসহায় পিতা মোঃ আবুল হোসেন ॥
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার বাসিন্দা আবুল। দুই ছেলে এক কন্যা সন্তানের জনক। গত কয়েক মাস পূর্বেও গাজীপুরের মাওনা এলাকায় রিক্সা চালাতেন তিনি। হটাৎ একদিন নিয়তির নির্মম খেলায় সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শারিরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোন ধরনের কায়িক পরিশ্রমের কাজ করতে অক্ষম তিনি। রিক্সা চালিয়ে উপার্জনের জমানো টাকা চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই ফুরিয়ে গেছে। সামনে ঈদুল ফিতর এমন কিছু কর্ম করতে হবে যাতে করে সন্তানের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা যায়। এমন কথাগুলো যখন আবুল ভাবছিলেন তখন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ।

সাত বছরের ছোট ছেলে সবুজ বাবার কাছে ঈদের নতুন জামা পড়ার বায়না ধরে। অতঃপর অসহায় পিতা, পুত্রের মুখে ঈদ আনন্দ ফুটাতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাতে ভিক্ষুক এর বেসে।

আবুল হোসেন জানান, এই জীবনে কি চাইলাম আর কি পাইলাম না এইডা নিয়া ভাবিনা। ভিক্ষা কইরা হইলেও সন্তানের জন্য নতুন জামার ব্যবস্থা করতে পারছি এইডাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা তুমি আর ভিক্ষা করাইওনা একটা কাজের ব্যবস্থা কইরা দেও।