পেট থেকে বের হলো ৬৩৯ পেরেক!‌

0
94

অপারেশন থিয়েটারে পেট কাটা মাত্রই চক্ষু চড়কগাছ খোদ ডাক্তারদের। সাবধানে পেট থেকে একগুচ্ছ পেরেক বের করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধে চুম্বক এর সহায়তায় নেন চিকিৎসকরা। একটি দুইটি  বা এক ডজন নয় পেট থেকে বের হয় দেড় কেজি ওজনের আস্ত পেরেক। যা সংখ্যায় ৬৩৯টি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী  কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগীর পেট থেকে বের করা হয় ৬৩৯ টি পেরেক। জটিল এই অস্ত্রপচারটি সফলভাবে শেষ করেন চিকিৎসকরা। রোগী প্রকাশের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পেরেক খেয়ে এতদিন এই রোগী বেঁচে ছিলেন কেমন করে এটি এখন সবার আশ্চর্যের বিষয়।

কোলকাতার গোবরডাঙা স্টেশন সংলগ্ন মনসাতলার বাসিন্দা প্রকাশ ঢালি দুর্গাপুজার আগে থেকে পেটে ব্যাথার সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসক শঙ্কর বিশ্বাসকে দেখান। তিনি কলকাতা মেডিক্যালে দেখানোর পরামর্শ দিলে এখানে এন্ডোস্কোপিতে ধরা পড়ে পেটে পেরেক রয়েছে। ২৫ অক্টোবর চিকিৎসকদের দেখানোর দুই দিন পর   সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয় প্রকাশকে। একই দিন প্রায় ২ ঘণ্টা অস্ত্রপ্রচার চালানো হয়।

লোহার পেরেক খেয়ে রোগী বেঁচে ছিলেন কেমন করে তা ভেবে পান না খোদ চিকিৎসকরা। নিজের অভিজ্ঞতার  প্রথম দেখা এই রোগীর অস্ত্রপ্রচার বিরল বলে জানান সার্জারি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ সিদ্ধার্থ বিশ্বাস।

তারা নিজেরাই অবাক হয়েছেন রোগীর পেতের ভেতর এমন আস্তো ছয় শতাধিক পেরেক দেখে। রোগী প্রকাশ ঢালির মানসিক সমস্যাও রয়েছে। অপারেশন করার পর গুনে দেখা যায় বিভিন্ন সাইজের ৬৩৯টি পেরেক যার ওজন ১ কেজি ৬০ গ্রাম।  ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের কোনও ক্ষতি হয়নি। পাকস্থলীতে গেঁথে থাকলেও ছিদ্র হয়ে যায়নি। নইলে রক্তক্ষরণ হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। পাকস্থলী বাদ দিতে হয়নি বলে চিকিৎসকরা জানান।

চিকিৎসকরা পাকস্থলী কেটে বাদ দিতে হবে বলে আশঙ্কা করছিলেন শেষতক তা আর বাদ দিতে হয় না। রক্তপাত যাতে বেশি না হয় পেরেকগুলো বের করে আনতে তার জন্য চুম্বকের সাহায্য নেওয়া হয় । এই প্রথম এমন কোনও অস্ত্রোপচার হল কলকাতায়।

অস্ত্রোপচারে সহায়তা করেন সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শুভাশিস নস্কর, স্বর্ণদীপ তরফদার, সম্রাট বিশ্বাস, আশিস রঞ্জন। তাঁরা জানান, মাটির সাথে মাখিয়ে দলা তৈরি করে পেরেক খায় প্রকাশ। তবে যা আশঙ্কা করা হচ্চিল তেমন ক্ষতিসাধন হয়নি তার পাকস্থলির। এক বাসনের মতো মাটিগোলা পানি বেরিয়েছে প্রকাশের পেট থেকে।

অ্যানাস্থেশিওলজি বিভাগের অন্বেষা চন্দ্র, কোয়েল মিত্র, সব্যসাচী দাসরা জানান, রোগী যখন এখানে আসেন পুরো তলপেট ঝুলে পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল। অপারেশনটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

রোগীর স্ত্রী ক্ষমা দেবী বাড়িতে পার্লার চালান। বাড়িতে সাইকেল রাখার গ্যারাজ থাকলেও মূলত তিনিই দেখভাল করেন। কারণ, তাঁর স্বামী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, মানসিক কিছু সমস্যা থাকায় আমার স্বামী ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ওষুধ খেতেন। তারপর ঠিকমতো ওষুধ খেতেন না, অথচ কিছু বলাও যেত না। হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পড়তেন।

রোগীর ভাই বিশ্বনাথ ঢালি বলেন, আমরা জানতাম না পেরেক খেত বলে। কারণ, আমাদের চোখের সামনে পেরেক খেতে দেখিনি। এখানকার ডাক্তারা সত্যিই আমাদের কাছে ভগবান যে তাঁরা অসাধ্যসাধন করেছেন।‌‌‌