প্রচন্ড ধূলিঝড়ের কবলে বেইজিং

0
62

প্রবল ধূলিঝড় আঘাত হেনেছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। সোমবার সকালে অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া ও চীনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা প্রবল বাতাসের ফলে এই ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা আবহাওয়া অফিস। এর ফলে বেইজিংয়ে বায়ূ দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে অনেকখানি।

দ্য চীনা মেটেরোরজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সোমবার সকালে বেইজিংয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি জানায়, ইনার মঙ্গোলিয়া থেকে ধূলিঝড় ছড়িয়ে পড়েছে গানসু, সানহাই ও হেবেই প্রদেশে। এ এলাকাগুলো বেইজিংয়ের চারদিকে অবস্থিত। এর ফলে শহরের সকল অধিবাসীদের বাইরে কাজ পরিহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, সোমবার বেইজিংয়ের বায়ুর মানের সূচক সর্বোচ্চ ৫০০ তে গিয়ে পৌঁছেছে। শহরের ছয়টি স্থানে পিএম১০ নামে পরিচিত উড়ন্ত কণার মাত্রা দাঁড়িয়েছে প্রতি কিউবিক মিটারে ৮ হাজার ১শ মাইক্রোগামে। এর ফলে দৃষ্টিসীমা দাঁড়িয়েছে ৩শ থেকে ৮শ মিটারের মধ্যে।

ফুসফুসে প্রবেশে সক্ষম আরও ছোট কণা পিএম২.৫ এর মাত্রাও অনেক বেড়ে গিয়েছে। সোমবার এর মাত্রা পৌঁছেছে প্রতি কিউবিক মিটারে ৩শ মাইক্রোগ্রামে। যা চীনের সাধারণ মাত্রা ৩৫ মাইক্রোমের চেয়ে অনেক বেশি।

সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ মঙ্গোলিয়াতেও ধূলিঝড় আঘাত হেনেছে। যাতে অন্তত ৩৪১ জন নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

ধূলিঝড়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে উড়োজাহাজ চলাচলও। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী হোহতে ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। আরও ধূলিঝড়ের আশঙ্কায় স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং বেইজিং ডাশিং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ধূলিঝড়টি ইয়াংজি নদী এলাকার বদ্বীপের দিকে ঘুরে যেতে পারে এবং আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবারের দিকে বেইজিংয়ের আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

গোবি মরুভূমির কাছাকাছি অবস্থানের কারণের বেইজিং মার্চ ও এপ্রিলে নিয়মিতভাবেই ধূলিঝড়ের কবলে পড়ে। এছাড়া উত্তর চীনে বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেইজিংয়ের চারপাশে থাকা অঞ্চলগুলো তুলনামূলকভাবে আরও বেশি দূষণের শিকার হয়েছে। ৫ মার্চ পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর সময়ও বেইজিং ধূলোর কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল।