আবু সাঈদ অপু :

বসবাসের জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা কে না চায়। যখন সারা জীবনের পরিশ্রমের টাকায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই এর স্বপ্ন দেখেন মধ্যবিত্তরা, তখন সেই অসহায়ত্ব পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁক ফোঁকর খোঁজে একটি মহল।

এমন অনেক নাম সর্বস্ব ডেভলপার কম্পানীর প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বশ্বান্ত হয়েছেন অনেকে। সম্ভবনাময় আবাসন খাত কলুষিত করছে যারা, এখনই তাদের বিরূদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার সময় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাফেজা ইসলাম। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায়। প্রতিবেশীদের কাপড় সেলাই করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করার স্বপ্নে কষ্টে উপার্জিত অর্থ জমিয়েছিলেন একটি ফ্ল্যাট কেনার আশায়।

টাকাও জমা দিয়েছিলেন একটি ডেভলপার কোম্পানীতে। হয়েছে চুক্তিপত্র ও বায়না। শর্তাবলীও পূরণ করার পথে। তার সব থেমে গিয়েছে। ২০১১ সাল থেকে শুরু করে ১৭টি রশিদের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা প্রদান করার পর উধাও প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে সাব অফিসের সাইনবোর্ডও হাওয়া। এ অবস্থা শুধু রাফেজা ইসলামের নয়। অসংখ্য মানুষ কোটি কোটি টাকা হারিয়ে হয়েছেন সর্বশ্বান্ত।

কষ্টে উপার্জিত শেষ সম্বল হারানো এমন অসংখ্য মানুষের সন্ধান মিলবে এই নগরীতে। আর তাই অভিযোগের সত্যতা উন্মোচনে অনুসন্ধানে নামে ঘটনার অন্তরালে টিম।

২০০৯ সালে ফ্লাটের মূল্য অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারী, আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রকল্প হাতে নেয়। এর ফলে চরম অব্যবস্থপনা দেখা দেয় চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে।

আর তার প্রভাব পড়ে ২০১৩ সালের আবাসন বানিজ্যে। তবে ২০১৭ সালে সেই ধকল কাটিয়ে আবারও দাঁড়াতে শুরু করেছে আবাসন সেক্টর।

মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠা আবাসন খাতে সত্যিকার অর্থে কি চলছে। তা জানতে রিহ্যাবের সভাপতির কাছে ঘটনার অন্তরালে টিম।  তার মনে প্রতারণার এই প্রবণতা থেকে বেড়িয়ে আসলেই বাঁচানো সম্ভব এই উজ্জল সম্ভাবনাময় খাতকে।