‘প্রতারক’ স্টিভ স্মিথকে নিয়ে উত্তাল ক্রিকেটবিশ্ব

0
51

বল বিকৃতির অভিযোগ স্বীকার করেছেন অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। বল বিকৃতির গুরুতর অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব থেকে আচমকা সরে যেতে হল তাকে। তাঁকে একটি টেস্টের জন্য নির্বাসিত করেছে আইসিসি। জরিমানা করা হয়েছে ম্যাচ ফির শতভাগ। ।

ক্রিকেটবিশ্বে প্রশ্ন উঠছে, কেন আইসিসি শুধু এক টেস্ট নির্বাসনেই ছেড়ে দিচ্ছে স্মিথকে? কেন আরও বড় শাস্তি দেওয়া হবে না? স্মিথের নির্বাসন এবং অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোতেই অবশ্য ঘটনা মিটছে না। হুলস্থুল পড়েছে অস্ট্রেলিয়া-সহ সর্বত্র।

স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের দেশের অধিনায়ক ‘প্রতারক’, এটাই মানতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়রা। এমনকী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

দাবি উঠেছে, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড আজীবন নির্বাসিত করুক স্মিথ এবং সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে। স্মিথের মতো ওয়ার্নারও সহ-অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন।

এই ঘটনার জেরে আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন স্মিথ। রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের নাম ঘোষণা হয়েছিল। তবে আইপিএল শুরুর ১৩ দিন আগে বল বিকৃতি বিতর্কে আক্রান্ত দেখাচ্ছে তাঁর ‘রয়্যালস’ মুকুটকেও।

ওয়ার্নার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক। তাঁরও পদ থাকে কি না তা নিয়েও চলছে বিতর্ক। রাজস্থান রয়্যালস রোববার জানিয়েছে, তারা বোর্ডের নির্দেশের অপেক্ষায়। সমর্থকদের বলা হয়েছে ধৈর্য ধরতে। স্মিথ সরলে রয়্যালসের অধিনায়ক হবেন অজিঙ্কা রাহানে।

শনিবার কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে টিভিতে ধরা পড়ে, শিরিস কাগজ-জাতীয় কিছু দিয়ে বল ঘষছেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফ্ট। টিভিতে বল বিকৃতির ছবি ধরা পড়েছে দেখে ড্রেসিংরুম থেকে দ্রুত বার্তা পাঠানো হয়। তখন ব্যানক্রফ্ট তড়িঘড়ি হাতের বস্তুটিকে ট্রাউজারের মধ্যে লুকিয়ে ফেলেন।

ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। ঢেকে রাখা যায়নি নতুন এই কালো অধ্যায়কে। এর পরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্মিথ যা বলেন, তাতে ঘটনা আরও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

স্মিথ জানান, বল বিকৃতির ঘটনা পূর্ব-পরিকল্পিত। দলের প্রধান মস্তিষ্করা বসে নকশা করেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এই স্বীকারোক্তির পরে বডিলাইনের প্রবক্তা সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিনের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে যায় তাঁর। কেউ কেউ বলেন, জার্ডিন তবু ক্রিকেটের আইন মেনে বডিলাইন বোলিং করিয়েছিলেন। স্মিথ তো পুরোপুরি প্রতারণাই করলেন!

বছরখানেক আগে ভারতে এসে ‘ডিআরএস’ বিতর্কে জড়িয়েছিলেন স্মিথ। আউট হওয়ার পরে ড্রেসিংরুমের দিকে ইশারা করে জানতে চেয়েছিলেন, ডিআরএস নেবেন কি না।

সেই সময়ে তবু স্মিথ বলতে পেরেছিলেন, তাঁর মাথা কাজ করেনি। কেপ টাউন আত্মপক্ষ সমর্থনের আর কোনও সুযোগ না দিয়ে তাঁর ক্রিকেট আকাশকেই মেঘাচ্ছন্ন করে তুলল!