প্রতিটি অর্জনের পেছনে এদেশের মানুষের ত্যাগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

0
76

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন জাতির পিতা।

তিনি বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ আবারও উন্নয়নে কাজ শুরু করে। এখন মুক্তিযুদ্ধের কথা মানুষ বলতে পারে।

শনিবার বিকালে কৃষিবিদ ইস্টিটিউশন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া হয়েছিল, সে ভাষা আমরা শিখবো না কেন? চর্চা করব না কেনো?। এটা একান্তভাবে আমরা মনে করি, এ ভাষার চর্চা অপরিহার্য। মাতৃভাষা বলাটা ইংরেজিভাবে শুরু হয়ে গেছে কেন, তা আমি জানি না বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি অর্জনের পেছনে এদেশের মানুষের ত্যাগ রয়েছে। ক্ষমতাকে একবারে তৃণমূলে পৌঁছে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতার অনুরোধে মিত্রশক্তিকে ফেরৎ নিয়ে যায় ইন্দিরা গান্দী। স্বাধীনতার সুফল বাংলাশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করেছিলেন জাতির পিতা।

তিনি বলেন, যুদ্ধপারধীদের বিচার বন্ধ করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়ে। জাতির পিতার হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। তিনি আরও বলেন, ৭৫’ এবং ১৫’ আগস্টের পর পাকিস্তানি প্রদেশ বানানো চেষ্টা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাওয়াত কার্ডও এখন ইংরেজিতে লেখা হয়। এটা কেন লিখতে হবে? ইংরেজি ভাষাভাষীর জন্য সেটা হতে পারে। তবে আমাদের দেশে বিয়ের কার্ড কেন ইংরেজি ভাষায় লিখতে হবে? এর মধ্যে তো কোনো আলাদা মর্যাদা নেই। এ সময় এক সচিবের মেয়ের বিয়ের কার্ড বাংলা ভাষায় লেখায় বেশ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে অন্য ভাষাও শিখতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে যোগাযোগ বাড়াতে এটা জরুরি। এই সময়ে যে যত বেশি ভাষা শিখতে পারে তার জন্য তত ভালো। তবে সবার আগে ভালোভাবে বাংলা ভাষা শেখাটা জরুরি। আগে যারা ইংরেজি শিখতো না তারা এখন এ ভাষা শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাংলাকে প্রাধান্য দিয়ে সেক্ষেত্রে আমরা অন্য ভাষার চর্চা করবো। ইংরেজি ভাষার অনেক শব্দও তো আমরা বাংলা ভাষায় গ্রহণ করেছি।

ইংরেজি ও বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে ভাষার বিকৃতিকারীদেরও সমালোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অন্য ভাষাও চর্চা করতে হবে কিন্তু মাতৃভাষার মর্যাদাও দিতে হবে। উচ্চ আদালতে বাংলা চর্চা করা প্রয়োজন। মাতৃভাষা চর্চার শিক্ষা পরিবার থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের হাতে যারা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল, তাদের যেন জাতি কোনো সময় ক্ষমা না করে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে সংকোচ হয়, দেশে এমন পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে। এছাড়া ইংরেজিতে রায় লিখলে সবার কাছে তা বোধগম্যও হয় না।