প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

0
224

প্রতিটি উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার ২০ জেলার ৭০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’-এর কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আধুনিকায়নের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘অন্ধজনে আলো দেয়ার চেয়ে বড় কাজ হতে পারে না। অন্ধত্ব মানুষের জীবনকে অর্থহীন করে দেয়। এই চিকিৎসার ফলে তারা সুস্থ হবেন। দেখতে পাবেন। জীবনটা হবে অর্থবহ। মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা সেবাটা দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক উপজেলায় এই ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’ করে দেয়া হবে।

ইতোমধ্যে আরও ১১০টি ভিশন কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও চিন্তা করছি। সে পদক্ষেপও আমরা নিচ্ছি। এজন্য মনে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তার সরকার চক্ষু রোগীদের যেমন চোখে ছানি পড়া, গ্লুকোমা বা ডায়াবেটিস, রেটিনোপ্যাথি বা শিশুর চোখে আঘাত জনিত চিকিৎসা, পাওয়ার চশমার ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে দেওয়ার উদ্যাগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক চক্ষু সেবার আওতায় আসা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জন্মান্ধতা দূর করার জন্য প্রসূতি মাকে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছি। প্রসবের আগে ইনজেকশন দিয়ে দেয়া হয়। যার কারণে এখন সেটার ভালো রেজাল্ট পাচ্ছি। জন্মান্ধতা কমে গেছে। এছাড়াও ভিটামিন ই-সহ নানা টিকা দিয়ে রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করছি। যক্ষ্মাসহ নানা রোগ হলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭২ এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি ও লুটপাটকারীরা ক্ষমতায় আসে। যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে এটা আশা করা যায় না। আমরা ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলাম। পরে ২০০১ সালে বিএনপি এসে এগুলো নষ্ট করেছে।’

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার কারণে আমি ভিডিও কনফারেন্সে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ব্রডব্যান্ড লাইনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। মুজিব বর্ষে কেউ সেবা বঞ্চিত হবে না। কেউ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য সারাদেশে ঘর করে দিচ্ছি। নদী ভাঙাদের ঘর করে দেয়ার জন্যও আলাদাভাবে বাজেটে ১০০ কোটি টাকা রেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।  গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কার্যক্রম এবং রেফারেল ব্যবস্থার বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়।