প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয় : প্রধানমন্ত্রী

0
65

প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুষ্ঠ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসা সম্ভব।

সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অটিজম সচেতনতা দিবসের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়, সকলের একটু সহযোগীতা পেলেই তারা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করতে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘অটিজম বিষয়ে একসময় আমারও ভালো ধারণা ছিল না। আমার মেয়ে পুতুল এসব বিষয় নিয়ে আমেরিকায় লেখাপড়া করেছে। পুতুল অটিজম নিয়ে কাজ করে। একবার আমার মেয়ে পুতুলের সঙ্গে গিয়ে দেখলাম, একটা বাচ্চা হাঁটতে পারে না, চলতে পারে না, ট্রলির মধ্যে শুয়ে আছে। সে মুখ দিয়ে তুলি কামড়ে ধরে ছবি আঁকছে। আমি সেই ছবিটা নিলাম।’ এ ঘটনার পর থেকেই অটিস্টিক শিশুদের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা কার্ড বানিয়ে আসছেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অটিজম বিষয়ে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অটিজমের ওপর একটা রেজ্যুলেশনও গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী একটা সচেতনতা শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন লোকদের জন্য প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটা কমপ্লেক্স তৈরি করতে চাই। মৃত্যু পর্যন্ত অটিস্টিক হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এখানে। সূচনা ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশনও করে দিয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সুযোগ পেলে তারাও দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সুস্থ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসতে পারে না, কিন্তু প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা বিদেশ থেকে দেশের জন্য স্বর্ণ জিতে নিয়ে আসে। আমরা সাভারে ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তুলছি। জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণেও তাদের খেলার জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক লাখ ২৫ হাজার প্রতিবন্ধীকে ভাতা দিচ্ছি। প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছে।’ এ সময় অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশে দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে অটিজম বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, জাতীয় পরামর্শক কমিটি এবং কারিগরি নির্দেশক কমিটির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে অটিজম সচেতনতা, দ্রুত চিহ্নিতকরণ, সেবা ও পুনর্বাসনে কাজ চলছে। এজন্য ১৩টি মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে