প্রতি মুহূর্তে ভাঙন আতঙ্কে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী মানুষ

0
65

মাহফুজ সাজু :

নদী ভাঙলে কিছুই থাকে না, নদী কোনো চিহ্নও রাখে না। নদীর জলের আল্পনায় আঁকা থাকে হারিয়ে যাওয়া বসতবাড়ি আর জমি-জিরাতের ছবি। যা দুঃস্বপ্ন হয়ে ভাসে সব হারানো মানুষের বিষন্ন, বিবর্ণ মুখে।

সেই ভাঙন রোধে লালমনিরহাটে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হলেও, কাজ শুরু হয়নি নয় মাসেও। যদিও বর্ষার আগেই কাজ শুরুর তাগিদ স্থানীয়দের।

কয়েক বছর আগেও সদর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের নাছির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী দোলেনা বেগমের ছিল ৬-৭ একরের বাড়ি-বাগান আর ফসলি জমি। চোখের সামনেই বিলীন হয়েছে সেই ভিটেমাটি, চার বারের ভাঙ্গণে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

অন্যের দয়ায় ৭/৮ শতাংশ জমিতে একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ঠাঁই মিললেও ঘরের কাছেই চলে এসেছে নদী। দুু’জনের কপালেই তাই দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ।

উত্তরের সীমান্ত জনপদের তিস্তা-ধরলার উপকূলের বাতাসে ভেসে বেড়ায় এমনি অগণিত সর্বশান্ত মানুষের হাহাকার। ঘরবাড়ি, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির, চাষাবাদের জমি সবই গ্রাস করেছে নদী।

এখন কারো মাথার ওপর চাল নেই, কারো বা নেই এক টুকরো নিজের জমি। পৈত্রিক ভিটা হারিয়ে অনেকে হচ্ছেন দেশান্তরী।

গত তিন দশকে প্রমত্তা নদী গর্ভেই বিলীন হয়ে গেছে লালমনিরহাটের গ্রামের পর গ্রাম। ভিটামাটি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি বিপন্ন পরিবারগুলোর।

ভাঙন রোধে জেলার ৪ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার নয় মাসেও কাজ শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর অপেক্ষা, কবে নির্মাণ হবে বাঁধ, তারাও পাবেন ভাঙ্গণ থেকে মুক্তি।