প্রথমবারের মতো নায়ক রাজকে ছাড়াই জন্মদিন পালন

0
91

আজ ২৩ জানুয়ারি বেঁচে থাকলে কিংবদন্তি এই মানুষটি ৭৭ বছরে পা রাখতেন। এ উপলক্ষে ভাবগম্ভীর পরিবেশে নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো নায়করাজকে ছাড়াই পালন করা হচ্ছে জন্মদিন।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে বনানীতে রাজ্জাকের কবর জিয়ারত করা হয়েছে। সেখান থেকে ফিরে এসে দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) স্থাপিত রাজ্জাকের স্মৃতিফলকে ফুল দেয়া হয়েছে এবং সেখানে সংগঠনটির কার্যালয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেক কাটা হয়। বিকেলে বিএফডিসি মসজিদে মিলাদ মাহফিল করা হবে।

আজ মহান এই নায়কের জন্মদিনে তার পরিবারের সদস্যরা নানান উদ্যোগ নিয়েছে। নায়করাজের জীবনের শেষ কটি বছরে যে সবসময়ই তার পাশে ছিলেন তিনি হচ্ছেন তার ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট। সম্রাট জানান, আজ সকালে রাজধানীর বনানীতে নায়করাজের কবরস্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন পাঠ ও দোয়া করা হবে।

বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্যান্য এতিম, গরিবদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদেই নায়করাজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।

সম্রাট বলেন, ‘আব্বার জন্য শুধু সবার কাছে দোয়া চাই যেন মহান আল্লাহ আমার আব্বাকে বেহেস্ত নসীব করেন। এমন একজন বাবার সন্তান হয়ে সবসময়ই আমি গর্ববোধ করি। সন্তান হিসেবে বাবার স্মৃতি নিয়ে যেন সারাটা জীবন ভালোভাবে থাকতে পারি এই দোয়া চাই।’

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জানান, শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে নায়করাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বাদ আছর বিএফডিসি জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বনানীতে রাজ্জাকের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য

জায়েদ খান বলেন, ‘নায়করাজ রাজ্জাক আমাদের চলচ্চিত্রের মহান প্রাণ পুরুষ। তিনিই আমাদের সকল নায়কের আদর্শ। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। গত ২১ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের সময় আমরা সবাই মহান এই নায়ককে আত্মা দিয়ে অনুভব করেছি, তার অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা উপলব্ধি করেছি সবাই।’

নায়করাজ রাজ্জাক গতবছরের ২১ আগস্ট হঠাৎ করেই সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান। প্রয়াত কিংবদন্তি সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনিই নায়করাজকে ‘নায়করাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন।