প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে চলছে ডিজিটালাইজেশন (ভিডিও)

0
128

রাকিব হাসান :  শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির মূল ভিত্তি হচ্ছে মানসম্মত ও যুযোপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ হলেও তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে সারা দেশে আরো ৬৫ হাজার নতুন ভবন নির্মান করা হবে বলে জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মাই টিভির সাপ্তাহিক আয়োজন ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ এর আজকে পর্বে উঠে এসেছে উন্নয়নের এই গল্প।

শিক্ষা মানুষকে ভেতর থেকে আলোকিত করে। বদলে দেয় দৃষ্টিভঙ্গি, তৈরী করে জানার আগ্রহ। নিরক্ষরতামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরই প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালে গঠন করা হয় কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।

১৯৭৩ সালে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রার সূচনা করেন বঙ্গবন্ধু। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার সেরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করন করেন তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে রয়েছে তিন দফায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্মসূচী। এ কর্মসূচীতে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনেই তুলে দেয়া হয় রঙিন বই, প্রদান করা হয় উপবৃত্তি, অনগ্রসর এলাকায় স্কুল ফিডিং চালুসহ স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের বিষয়গুলোকে দেয়া হয় গুরুত্ব।
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে এরই মধ্যে আয়োজন করা হচ্ছে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার।

এছাড়া দেশব্যাপী শুরু হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমও। স্থাপন করা হয়েছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য হলো এর বিশালতা। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫,৫৯৩টি, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ১শ জন।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভর্তির হার ৯৭দশমিক আট পাচ শতাংশ। দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে ঝরে পরা শিক্ষার্থীর সংখ্যা। প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপনের হার ৮১দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলমান থাকলেও এর কিছু ঘাটতি রয়েছে বলে জানালেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষ প্রতিমন্ত্রী। শীগগিরই তা পূরনেরও আশ্বাস দেন তিনি।