‘ফাস্ট ট্র্যাক’ মর্যাদা পেল করোনার দুই ভ্যাকসিন

0
648

মার্কিন ফাইজার এবং জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক করোনার সম্ভাব্য যে দুটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, সেগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক স্ট্যাটাস’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। এর মাধ্যমে তাদের ভ্যাকসিন দুটির রেগুলেটরি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। সোমবার কোম্পানি দুটি যৌথভাবে এমন কথা জানায়।

বিশ্বে তৈরি দুই শতাধিক ভ্যাকসিনের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ১৫টির। এরমধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ উৎপাদনকারী অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না ছাড়াও অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার শীর্ষে রয়েছে ফাইজার-বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিন দুটি।

ফাস্ট ট্র্যাক স্ট্যাটাস পাওয়ায় BNT162b1 ও BNT162b2 নামে ফাইজার এবং বায়ো এন টেকের ভ্যাকসিন দুটির উন্নতি পর্যালোচনা এখন থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রাশাসন এফডিএ। এর আওতায় সংস্থাটি ছয় মাসের মধ্যে ভ্যাকসিনটি বাজারে আনার অনুমোদনের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই দুটি টিকার ইতিমধ্যে ট্রায়াল ১ সম্পন্ন হয়েছে এবং ট্রায়াল ২ চলমান রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে তাদের প্রাথমিক ট্রায়ালে করোনার বিরুদ্ধে আশাব্যাঞ্জক ফল পেয়েছে তারা। বিস্তারিত তথ্য চলতি মাসের শেষের দিকে প্রকাশ করবে। অনুমোদন পেলে চলতি মাসের শেষের দিকে তারা বড় আকারে ট্রায়াল শুরু করবে। যেখানে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে দেওয়া হবে এই টিকা।

বায়োএনটেক ও পিফিজারের টিকা দুটির ট্রায়াল ১ ও ২ এর কার্যকারিতা ও অন্যান্য বিষয়ের ডাটা বিশ্লেষণ করেই এফডিএ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ স্বীকৃতি দিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠান দুটিকে করোনার কার্যকরী টিকা আবিস্কারের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল ও যত্নবান করে তুলবে।

শেষ পর্যন্ত এই দুটি টিকা যদি সফলভাবে তাদের ট্রায়াল শেষ করতে পারে তাহলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১ কোটি ডোজ ও ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত ১২০ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন কার্যকরী ও নিরাপদ ভ্যাকসিন অর্থাৎ টিকা বা ঔষধ তৈরি হয়নি।